২৪ দফা দাবি নিয়ে কালিয়াগঞ্জ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি, দ্রুত সমাধানের দাবিতে সরব সিআইটিইউ-সহ কৃষক-শ্রমিকসংগঠনগুলি
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৮ জুলাই: সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে ২৪ দফা দাবি নিয়ে কালিয়াগঞ্জের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিল সিআইটিইউ, সারা ভারত কৃষক সভা, সারা ভারত ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন এবং বস্তি ফেডারেশনের যৌথ সমন্বয় কমিটি। মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে দ্রুত দাবি পূরণের আবেদন জানায় সংগঠনগুলির নেতৃত্ব।সংগঠনগুলির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কৃষক, ক্ষেতমজুর, অসংগঠিত শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ একাধিক মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন হলেও প্রশাসনের তরফে তার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই মানুষের ন্যায্য অধিকার ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ২৪ দফা দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপির গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি
স্মারকলিপিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন শ্রম কোড প্রত্যাহার এবং ১০০ দিনের প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণের দাবিও তোলা হয়েছে।
এছাড়াও সারের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধ, ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে চালু করা, বকেয়া জব কার্ড প্রদান, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে কৃষকদের হয়রানি বন্ধ এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত ডিম সরবরাহ, আবাস যোজনার প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দ্রুত ঘর প্রদান, রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ হাট-বাজারে স্বাভাবিক কেনাবেচার পরিবেশ বজায় রাখা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা মাসিক মজুরি প্রদান এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনও পরিবারকে উচ্ছেদ না করার দাবিও সংগঠনগুলির অন্যতম দাবি।
এছাড়াও মিড-ডে মিল কর্মীদের বেতন সরাসরি তাঁদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের আধার সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান, নতুন আধার কার্ড তৈরির সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ এবং পঞ্চায়েত এলাকার ভাঙাচোরা গ্রামীণ রাস্তা, সেতু ও ঘাটের দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের দাবিও জানানো হয়েছে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি, নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সংগঠনগুলির নেতৃত্বের অভিযোগ, বহু বছর ধরে এই সমস্যাগুলি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ২৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দাবি পূরণের বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলন ও লাগাতার কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
কারা নেতৃত্ব দিলেন
এদিন কালিয়াগঞ্জ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন দিগেন্দ্র নাথ রায়, শংকর রায়, মনোরঞ্জন পাটোয়ারী, সুরজিৎ কর্মকার, অয়ন দত্ত, জ্যোতি বিকাশ ভদ্র এবং প্রশান্ত ঘোষ-সহ সিআইটিইউ, সারা ভারত কৃষক সভা, সারা ভারত ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন ও বস্তি ফেডারেশনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।বিক্ষোভ শেষে প্রতিনিধিদল বিডিও-র হাতে ২৪ দফা দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। এখন প্রশাসন এই দাবিগুলির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

