৯ দিনের ভক্তি, শৃঙ্খলা ও সাবেকিয়ানার মেলবন্ধন! মহালয়া থেকেই দুর্গোৎসবের সূচনা কালিয়াগঞ্জের বিশ্বদেব মঠে
শরতের আগমনে চারপাশে যখন পূজার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই কালিয়াগঞ্জের হলদিবাড়ি সংলগ্ন এলাকার বিশ্বদেব মঠের এক অনন্য ভক্তিঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা কিংবা থিম পূজার ভিড়ে এই আশ্রমটি ধরে রেখেছে তার নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রশান্তি। অন্যান্য পূজা মণ্ডপে যখন ষষ্ঠী থেকে মূল উৎসব শুরু হয়, সেখানে এই মঠের মহালয়ার পূণ্য তিথিতেই শুরু হয়ে যায় দুর্গোৎসব।
৯ দিন ব্যাপী এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্ব দেব মঠের স্থানীয় মানুষের কাছে এক গভীর ভালোবাসার মেলবন্ধন।খুদে আবাসিকদের হাতেই পূজার পূর্ণ দায়িত্বচলতি বছর মঠের এই দুর্গাপূজা ১৪ তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে।মঠের আশ্রম পরিচালনা থেকে শুরু করে পূজার সূক্ষ্ম কাজ—সবকিছুতেই রয়েছে মঠের১০ জন খুদে আবাসিকের অবদান। কড়া নিয়মবর্তিতা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বড় হওয়া এই শিশুরা কেবল পড়াশোনাই করছে না, বরং নিজেদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। পূজার দিনগুলোতে পুরোহিতের প্রয়োজনীয় ফুল, বেলপাতা, নৈবেদ্য থেকে শুরু করে যাবতীয় উপকরণ প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার মতো কঠিন কাজ তারা পরম নিপুণতায় সম্পন্ন করে।বিশ্বদেব মঠের মহারাজ স্বামী শিবাত্মানন্দজি জানান, “আমাদে এই মঠে ১০ জন শিক্ষার্থী মঠে থেকে পড়াশোনা করে। তারা দেখতে দেখতে পূজার সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান শিখে গেছে। শৃঙ্খলা ও ভক্তির সঙ্গে তারা এই আয়োজন সামলায়।”ঐতিহ্য, সমাজসেবা ও প্রতিমা বিসর্জ মঠের প্রতিষ্ঠাতা ও ভক্তদের মতে, রথের দিন সাবেকি কাঠামোর পূজার মাধ্যমেই রূপ পেতে থাকে উমার প্রতিমা। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা সেই প্রতিমার পূজা শুরু হয় মহালয়ায়। পূজার পাশাপাশি বিশ্বদেব মঠে চলে ব্যাপক সমাজসেবা কার্যক্রম।
