ভারতে ৫ মিলিয়নের বেশি পুঁথি থাকলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশে: রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সমীর কুমার মণ্ডল
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ:অমুদ্রিত পুঁথিকে মুদ্রিত করে জনসমক্ষে আনাই বর্তমান সময়ে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে এই বার্তাই উঠে এল। এদিন পুঁথি সংরক্ষণ ও গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্ট অধ্যাপকেরা।পুঁথি সংরক্ষণের বিষয় এদিন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের বেদ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সমীর কুমার মণ্ডল। তিনি তাঁর বক্তব্যে পুঁথি সংরক্ষণের ব্যবহারিক দিকগুলো তুলে ধরেন।

তিনি জানান:পুঁথির প্রাচুর্য: ভারতে বর্তমানে ৫ মিলিয়নেরও বেশি পুঁথি রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের ওপর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৯৫ শতাংশ আজও গবেষণার অপেক্ষায়।সংরক্ষণের পদ্ধতি: পুঁথি দীর্ঘস্থায়ী করতে কেমন ঘরে রাখা উচিত, কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং সংরক্ষণের জন্য কী কী উপাদান ব্যবহার করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানান।ক্ষতির কারণ: তিনি সতর্ক করে বলেন যে— প্রাকৃতিক, দৈবিক এবং মানবিক— এই তিন কারণে মূলত মূল্যবান পুঁথি নষ্ট হয়ে যায়।গবেষণার সুযোগ: নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুঁথি নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে পারবে, তার একটি রূপরেখাও তিনি প্রদান করেন।ভয় কাটিয়ে পুঁথি পাঠে আগ্রহকরতে অনুষ্ঠানের শুরুতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর রেজাউল করিম বাংলা পুঁথি পাঠ ও তার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক মীর রেজাউল করিমবলেন, “পুঁথি নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পুঁথির লিপির প্রায় ৯০ শতাংশই আমাদের পরিচিত। সামান্য চর্চা করলেই এটি সহজ হয়ে যায়।” তিনি সরাসরি বাংলা পুঁথি প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের লিপি ও ভাষা বোঝান।এদিন সব শেষে বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির অধ্যক্ষ গোপাবন্ধু মিশ্র অনলাইন মাধ্যমে কর্মশালায় যুক্ত হন। তিনি ‘একক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা: সমস্যা ও সমাধান’ শীর্ষক বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।এদিনের সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংস্কৃত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক স্বপন মাল। তাঁর সুমধুর ভাষণের মাধ্যমেই দ্বিতীয় দিনের সভার সূচনা ও সমাপ্তি ঘটে । সব মিলিয়ে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্তর্জাতিক কর্মশালায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
