**প্রকল্প আছে, সরকার আছে—তবু কালিয়াগঞ্জে দুশ্চিন্তায় তৃণমূল! ভোটের আগে কেন ঘুম উড়ছে শাসক শিবিরের?**


রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের ঢেউ, একের পর এক জনমুখী প্রকল্প, মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় উপস্থিতি—সব কিছু থাকা সত্ত্বেও উত্তর দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র কালিয়াগঞ্জে আজ স্পষ্ট অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে দলের ভেতরের উদ্বেগ। প্রশ্ন একটাই—এত প্রকল্পের পরেও কালিয়াগঞ্জে ভোটের অঙ্ক কি তৃণমূলের পক্ষে নিরাপদ?অন্তত তদন্তমূলক একটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট বর্তমানের কথার সহ-সম্পাদক তন্ময় চক্রবর্তীর

প্রকল্প বনাম বাস্তব রাজনীতি

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে স্বাস্থ্যসাথী, দুয়ারে সরকার থেকে বাংলার বাড়ি—কাগজে-কলমে কালিয়াগঞ্জ পিছিয়ে নেই। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে সেই সুফলকে ভোটে রূপান্তর করতে পারছে না শাসক দল—এমনই ইঙ্গিত মিলছে দলের অন্দরমহল থেকে।

বুথস্তরে ভেঙে পড়া সংগঠন

সবচেয়ে বড় বিপদ—বুথ স্তরের সংগঠন দুর্বল। বহু এলাকায় বুথ কমিটি নামমাত্র, কর্মীদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা চরমে। নির্বাচনের সময় যাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট টানতেন, তাঁদের অনেকেই এখন দূরে সরে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত কালিয়াগঞ্জ

কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের আরেক বড় সমস্যা—অভ্যন্তরীণ কোন্দল। কে ব্লকের দখল নেবে, কে প্রার্থী ঠিক করবে, কে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে—এই লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল। এক গোষ্ঠীর কর্মীরা অন্য গোষ্ঠীর কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না—এমন অভিযোগও উঠেছে।

জনপ্রতিনিধি বনাম জনতার দূরত্ব

স্থানীয় মানুষদের একাংশের ক্ষোভ—নেতারা নির্বাচনের সময় এলেও পরে আর দেখা মেলে না। পানীয় জল, রাস্তা, সেচ, কাজের সুযোগ—এই দৈনন্দিন সমস্যায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উন্নয়নের প্রকল্প থাকলেও লোকাল নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীরবে শক্তি বাড়াচ্ছে বিরোধীরা

প্রকাশ্যে বড় সভা না হলেও বিরোধীরা গ্রামস্তরে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও ক্ষুব্ধ কর্মীদের দিকে নজর দিচ্ছে তারা। ফলে তৃণমূলের একাংশ ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরার আশঙ্কা করছেন।

ভোটের আগে বড় পরীক্ষার মুখে শাসক দল

সব মিলিয়ে কালিয়াগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেস আজ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে
প্রকল্প আছে—কিন্তু সংগঠন দুর্বল,
ক্ষমতা আছে—কিন্তু ঐক্য নেই,
সরকার আছে—কিন্তু মাঠের দখল প্রশ্নের মুখে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এখনই যদি সংগঠন চাঙ্গা না করা যায়, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানো না যায় এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ানো না হয়, তবে কালিয়াগঞ্জে আগামী বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূলের কাছে সহজ হবে না। উন্নয়নের খতিয়ান যথেষ্ট নয়—ভোটের ময়দানে চাই শক্ত সংগঠন ও বিশ্বাস।