মোবাইলের নেশা ছেড়ে দাবার ছকে ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা — উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে বিশ্ব দাবা দিবসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বিশ্ব দাবা দিবস উপলক্ষে “সবার জন্য দাবা” এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তর দিনাজপুর জেলা দাবা সংস্থার উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন ব্লকের একাধিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং কুইজ প্রতিযোগিতার। দাবা খেলার প্রতি নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা, তাদের মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং মোবাইল নির্ভরতা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

 

এই কর্মসূচির সূচনা হয় ইসলামপুরের ক্ষুদিরাম পল্লী সুকান্ত স্মৃতি বিদ্যাপীঠে। পরবর্তীতে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, দাবা বিষয়ক আলোচনা, প্রশিক্ষণ এবং কুইজের আয়োজন করা হয়। সমগ্র কর্মসূচির সমাপ্তি হয় কালিয়াগঞ্জ পার্বতী সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ে, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দাবার প্রতি তাদের আগ্রহ সকলের নজর কেড়েছে।প্রতিটি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দাবা শেখার উৎসাহ, প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনার প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষকরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দাবার মতো মানসিক বিকাশমূলক খেলাধুলার গুরুত্ব ক্রমশ বেড়ে চলেছে।সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা দাবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার, দাবা কোচ অমিত হোর, পার্বতী সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নন্দন সাহা, শিক্ষিকা রিপা প্রসাদ-সহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং জেলা দাবা সংস্থার সদস্যরা।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা দাবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার বলেন, বর্তমানে সমাজে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে তাদের মনোযোগ, ধৈর্য এবং সৃজনশীল চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দাবা এমন একটি খেলা, যা শিশুদের ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি করে, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা গড়ে তোলে এবং মনের একাগ্রতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আগামী প্রজন্মকে সুস্থ মানসিক বিকাশের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।জেলা দাবা সংস্থার এই উদ্যোগকে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষামহলের বিভিন্ন মহল প্রশংসা করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে শিশুদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে দাবার মতো শিক্ষামূলক খেলাধুলার প্রসার সময়ের দাবি। বিশ্ব দাবা দিবসের এই কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে মননশীল, ধৈর্যশীল ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।