রথের মেলায় না গিয়েও মেলার আনন্দ! উল্টো রথে কালিয়াগঞ্জ সরলা সুন্দরী হাই স্কুলে পড়ুয়াদের হাতে গরম জিলেপি
তন্ময় চক্রবর্তী উল্টো রথ মানেই রথের মেলার উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর গরম গরম রসালো জিলেপির স্বাদ। আর সেই আনন্দকেই এবার বিদ্যালয়ের অন্দরমহলে পৌঁছে দিল কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরলা সুন্দরী হাই স্কুল। শুক্রবার উল্টো রথ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় গরম গরম, টসটসে ও রসালো জিলেপি। এক অনন্য উদ্যোগে মুহূর্তের মধ্যেই গোটা স্কুল চত্বর ভরে ওঠে হাসি, উচ্ছ্বাস আর উৎসবের আবহে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রথের মেলায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী নানা কারণে যেতে পারে না। তাই তাদের মুখেও উৎসবের হাসি ফোটাতে এবং উল্টো রথের আনন্দকে স্কুলের মধ্যেই ভাগ করে নিতে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
তাঁর উদ্যোগেই মেলা থেকে আনা হয় বড় বড় প্যাকেট ভর্তি গরম জিলেপি। এরপর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতিতে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে সেই মিষ্টি তুলে দেওয়া হয়।জিলেপি হাতে পেয়ে পড়ুয়াদের মুখে ফুটে ওঠে একরাশ আনন্দ। ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ আবার শিক্ষকদের পাশে বসেই মজা করে জিলেপি খেতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় এক ছোট্ট রথের মেলায়। চারদিকে শুধু হাসির রোল, আনন্দ আর উৎসবের আবহ।শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বক্তব্য, বিদ্যালয় শুধুমাত্র পড়াশোনা শেখানোর জায়গা নয়, এটি ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বিতীয় পরিবার। পড়াশোনার পাশাপাশি উৎসব, সংস্কৃতি এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলাও শিক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ভাবনা থেকেই এই ছোট্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, উৎসবের প্রকৃত আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তা সবাইকে নিয়ে ভাগ করে নেওয়া যায়। তাই উল্টো রথের এই শুভ দিনে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ে এ ধরনের মানবিক ও আনন্দঘন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।পড়ুয়াদের অনেকেই জানায়, এদিনের এই আয়োজন তাদের কাছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। স্কুলে বসেই রথের মেলার জিলেপি খাওয়ার আনন্দ তারা কোনওদিন ভুলতে পারবে না। অনেকের কথায়, “আজ মনে হচ্ছে মেলাটাই যেন আমাদের স্কুলে চলে এসেছে।”উল্টো রথের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের মন জয় করেনি, অভিভাবকদের কাছেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ বিদ্যালয়ের সঙ্গে পড়ুয়াদের আবেগের সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে এবং স্কুলজীবনকে স্মরণীয় করে রাখে।রথের মেলার আনন্দ, গরম জিলেপির মিষ্টি স্বাদ আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা—সব মিলিয়ে কালিয়াগঞ্জ সরলা সুন্দরী হাই স্কুলে উল্টো রথের দিনটি হয়ে রইল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এক মধুর, স্মরণীয় এবং আনন্দঘন উৎসবের দিন।

