৫১ বছরে কালিয়াগঞ্জের ত্রিধারা সংঘের শ্যামাপুজো! ‘স্বপ্নালোক’ থিমে এবারও বড় চমকের প্রস্তুতি, খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা
তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার বিগ বাজেটের শ্যামাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম কালিয়াগঞ্জের ত্রিধারা সংঘের শ্যামাপুজো। প্রতিবছরই নতুন থিম, আকর্ষণীয় মণ্ডপসজ্জা এবং নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। শুধু কালিয়াগঞ্জ শহর নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছেও ত্রিধারা সংঘের শ্যামাপুজোকে ঘিরে থাকে বাড়তি প্রত্যাশা। এবারও সেই প্রত্যাশা পূরণে নতুন চমক নিয়ে হাজির হতে চলেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

৫১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এ বছর তাদের পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে ‘স্বপ্নালোক’ থিম। খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেল আগামী শ্যামাপুজোর প্রস্তুতি।খুঁটিপুজোকে কেন্দ্র করে এদিন ক্লাব প্রাঙ্গণে সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পুজোর শুভ সূচনাকে ঘিরে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি গৌরাঙ্গ রায়, সম্পাদক বিভাগ সাহা-সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তারা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ত্রিধারা সংঘের ৫১তম বর্ষের শ্যামাপুজোর প্রস্তুতি।ক্লাবের সভাপতি গৌরাঙ্গ রায় জানান, প্রতিবছরই ত্রিধারা সংঘের শ্যামাপুজোয় নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে কালিয়াগঞ্জবাসীর পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা যায়, তা তাঁদের আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। এবছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দর্শনার্থীদের সামনে নতুন ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে সেই পরিকল্পনারই শুভ সূচনা হল।তিনি আরও জানান, এবারের পুজোর মূল ভাবনা ‘স্বপ্নালোক’। থিমের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে এক নতুন পরিবেশ ও নান্দনিকতার ছোঁয়া তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্যান্ডেলসজ্জা থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা এবং সামগ্রিক আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই দর্শনার্থীদের ভালো লাগার মতো পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে ফুটে উঠবে এবারের ‘স্বপ্নালোক’, তার জন্য পুজোর দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দর্শনার্থীদের।ত্রিধারা সংঘের শ্যামাপুজো মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের নানা আয়োজন। সভাপতি গৌরাঙ্গ রায় জানান, এবছরও স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বহিরাগত শিল্পীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও আকর্ষণীয় কর্মসূচি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবের। সব মিলিয়ে এবারের শ্যামাপুজোকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা।পুজোর ৫১তম বর্ষে কালিয়াগঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলার সমস্ত মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে গৌরাঙ্গ রায় বলেন, প্রতিবছর যেভাবে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা তাঁদের পাশে থেকেছেন, এবারও সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসা কামনা করছেন তাঁরা। সকলকে ত্রিধারা সংঘের পুজোমণ্ডপে আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি। পাশাপাশি বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে আগাম দীপাবলির শুভেচ্ছাও জ্ঞাপন করেন।উল্লেখ্য, শ্যামাপুজোকে কেন্দ্র করে কালিয়াগঞ্জ শহরে প্রতিবছরই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বিভিন্ন ক্লাবের থিম, মণ্ডপসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। সেই উৎসবের আবহে ত্রিধারা সংঘের ৫১তম বর্ষের পুজো এবার কতটা নতুনত্ব তুলে ধরে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কালিয়াগঞ্জবাসী।খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রস্তুতি ঘিরে ক্লাব সদস্যদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে, তাতে এবারের পুজোকে ঘিরে তাঁদের প্রত্যাশাও স্পষ্ট। এখন অপেক্ষা শ্যামাপুজোর দিনগুলির—যখন ‘স্বপ্নালোক’-এর ভাবনা বাস্তবে ফুটে উঠবে এবং উৎসবের আনন্দে মেতে উঠবেন কালিয়াগঞ্জ-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।
