নাটকে নতুন মুখের খোঁজে যান্ত্রিক! কালিয়াগঞ্জে ১০ দিনের নাট্য কর্মশালার সূচনা, থিয়েটার বাঁচাতে নতুন প্রজন্মকে মঞ্চে আনার উদ্যোগ

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৬ অক্টোবর: কালিয়াগঞ্জকে বলা হয় নাটকের শহর। অথচ বছরের পর বছর মঞ্চে দেখা যাচ্ছে পরিচিত মুখগুলিকেই। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নাটকের আঙিনায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতেই এবার উদ্যোগী হল ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংস্থা যান্ত্রিক নাট্য গোষ্ঠী।

 

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, নজমু নাট্য নিকেতনের প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল তাদের উদ্যোগে দশ দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালার। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই কর্মশালা।যান্ত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর সম্পাদক দেবাশীষ পাল জানান, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নাটকের প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “অনেক ছেলেমেয়ে গান করছে, আবৃত্তি করছে, কমিকস দেখছে। কিন্তু এমন কী বাধা রয়েছে, যার জন্য তারা কালিয়াগঞ্জের নজমু নাট্য নিকেতনের প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারছে না? আমাদের মূল উদ্দেশ্য, নাটকে নতুন প্রজন্মকে আনতেই হবে।

 

তা না হলে নাটককে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”তিনি আরও জানান, মোট ২৫ জন নতুন মুখকে নিয়ে এই দশ দিনের কর্মশালা চলবে।

 

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু নাটকের পাঠ দেওয়াই নয়, নতুনদের সরাসরি মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।যান্ত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর কর্ণধার তথা বিশিষ্ট অভিনেতা নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, “সব কিছুরই একটা শেষ আছে। আমরা আর কত দিন নাটক করতে পারব?

 

তাই থিয়েটারকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে নাটকে আসতেই হবে। আমরা সেই কাজটাই শুরু করতে চলেছি।”কালিয়াগঞ্জের আর এক নাট্য সংস্থা অনন্য নাট্য গোষ্ঠীর কর্ণধার বিভু ভূষণ সাহা যান্ত্রিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নাটক ও থিয়েটারকে ভবিষ্যতের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা পালন করবে।বিচিত্রা নাট্য গোষ্ঠীর কর্ণধার চন্দন চক্রবর্তীর বক্তব্য, প্রত্যেক নাট্য সংস্থারই এখন নতুন প্রজন্মকে নাটক ও থিয়েটারের প্রতি আকৃষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।

 

নতুনদের মঞ্চমুখী করতে না পারলে আগামী দিনে নাট্যচর্চা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুশমণ্ডির খন পালার বিশিষ্ট নাট্যকার সৌরভ রায় এবং অন্যজন নাট্য সংস্থার আবুল আলী।

 

জানা গিয়েছে, কর্মশালার দশ দিন ধরে কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ ও কুশমণ্ডির বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্বরা নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণকারীদের নাটকের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।নাটকের শহর কালিয়াগঞ্জে নতুন মুখের সন্ধানে যান্ত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

 

পুরনোদের অভিজ্ঞতা আর নতুনদের উদ্যমকে একসূত্রে বাঁধতে পারলে আগামী দিনে কালিয়াগঞ্জের নাট্যচর্চা পেতে পারে নতুন দিশা। এখন অপেক্ষা, কর্মশালার শেষে এই নতুন মুখেরা মঞ্চে কতটা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।