বিজয়ার শুভেচ্ছায় সম্প্রীতির মেলবন্ধন কালিয়াগঞ্জ থানায়! পুলিশ–প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধি, বিজয়া সম্মিলনীতে মিলল সৌহার্দ্যের বার্তা
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সারা বছর ধরে এই চারটি দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন আপামর বাঙালি। ঢাকের বাদ্যি, নতুন পোশাক, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখা আর আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে কেটে যায় পুজোর দিনগুলি।

কিন্তু দশমীর পুজো শেষ হতেই আনন্দের মাঝেও মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কারণ, উমাকে যে বিদায় জানাতে হবে! মায়ের বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আরও এক পরম্পরা—বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করে তোলা।বাঙালির সেই চিরাচরিত ঐতিহ্য ও সৌহার্দ্যের পরম্পরাকে সামনে রেখেই কালিয়াগঞ্জ থানার উদ্যোগে থানা চত্বরে আয়োজন করা হয় বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের। পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, বিএসএফের আধিকারিক এবং শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান এক মিলনমেলার রূপ নেয়।
উৎসবের আবহে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপস্থিত অতিথিরা। তাঁদের কথায় ও আন্তরিকতায় উঠে আসে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি অভিজিৎ দত্ত, বিএসএফের আধিকারিকরা, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক উৎপল মহারাজ, কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সকলেই একে অপরকে বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানান। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়টিও এই অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায়।দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুজোর কয়েকটি দিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে।
আর বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় সেই বন্ধনকে আরও গভীর করে তোলে। কালিয়াগঞ্জ থানার এই উদ্যোগেও যেন সেই সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ছবিই ফুটে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের এমন আন্তরিক মিলন অনুষ্ঠান পারস্পরিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।শুভেচ্ছা বিনিময় পর্বের পর কালিয়াগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উপস্থিত অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

একসঙ্গে বসে আহার গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে আরও আন্তরিক পরিবেশ তৈরি হয়। শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নেন।কালিয়াগঞ্জ থানার উদ্যোগে এমন বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করায় উপস্থিত অতিথিরা থানা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তাঁদের মতে, কর্মব্যস্ততার মাঝে এই ধরনের উদ্যোগ সকলকে একত্রিত হওয়ার এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়ের সুযোগ করে দেয়।সব মিলিয়ে, কালিয়াগঞ্জ থানার উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান হয়ে উঠল সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মিলনের এক আন্তরিক পরিসর। উৎসবের রেশ কাটলেও মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন যে অটুট থাকে, এই বিজয়া সম্মিলনী যেন সেই বার্তাই পৌঁছে দিল।
