বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার পুলিশ কনস্টেবলের পচাগলা দেহ, কালিয়াগঞ্জে চাঞ্চল্য—আত্মহত্যা নাকি খুন? তদন্তে পুলিশ
কালিয়াগঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ড্রাইভারপাড়া এলাকায় একটি বন্ধ বাড়ি থেকে পচাগলা এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধারকে ঘিরে সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃতের নাম পার্থ বসু (৪৮)। তিনি রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে বাড়ির সামনে ঝাড়ু দিতে গিয়ে এক গৃহবধূ ওই বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি দ্রুত কালিয়াগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্ধ ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে বিছানার উপর পার্থক বসুর পচাগলা দেহ দেখতে পায়।পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা না গেলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল।এলাকাবাসীদের দাবি, পার্থক বসু দীর্ঘদিন ধরে একাই ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পারিবারিক অশান্তির জেরে তাঁর স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই মানসিক অবস্থার জেরেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের একাংশের অনুমান। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। এমনকি পুলিশ তাঁর বাড়ির সামনে নোটিশও টাঙিয়ে যায়। অবশেষে সোমবার তাঁর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল পচাগলা দেহ।ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

