কেমিক্যালমুক্ত চা উৎপাদনের নতুন নির্দেশে উদ্বেগে ক্ষুদ্র চা চাষিরা, সচেতনতায় জোর অ্যাসোসিয়েশনের
টি-বোর্ড এবং উত্তরবঙ্গ চা উৎপাদক সমিতি (NBTPA)-র নতুন নির্দেশিকা ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের ক্ষুদ্র চা চাষিদের মধ্যে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৭ জুলাই থেকে MRL (Maximum Residue Limit) রিপোর্ট ছাড়া কোনো কেনা পাতার কারখানা কাঁচা চা পাতা গ্রহণ করবে না। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদিত চা পাতা বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র চাষি।চা চাষিদের দাবি, কোন কোন কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে এবং কোনগুলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—সেই বিষয়ে স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হোক।
পাশাপাশি, নিষিদ্ধ রাসায়নিকের পরিবর্তে নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্পের ব্যবস্থাও করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাঁদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক চাষি অজান্তেই এমন কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যার ফলে চা পাতায় অবশিষ্ট রাসায়নিকের মাত্রা নির্ধারিত সীমা (MRL) অতিক্রম করছে এবং সেই পাতা কারখানায় গ্রহণ করা হবে না।এদিকে, উত্তর দিনাজপুর স্মল টি গ্রোয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কেমিক্যালমুক্ত ও নিরাপদ চা উৎপাদনের বিকল্প নেই। তাই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র চা চাষিদের নিয়ে সচেতনতামূলক শিবির আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের অবাধ বিক্রি এবং ব্যবহার বন্ধে সরকারের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠন।চা শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের মতে, এই নির্দেশিকা যেমন চায়ের গুণগত মান উন্নত করবে, তেমনই শুরুতে ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তাই প্রশাসন, টি-বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির সমন্বিত উদ্যোগেই এই পরিবর্তনের সঙ্গে চাষিদের মানিয়ে নিতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

