কুশমন্ডিতে তুঙ্গে নির্বাচনী লড়াই, গেরুয়া হাওয়ায় বাড়ছে বিজেপির আত্মবিশ্বাস—প্রচারে এগিয়ে তাপস রায়

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ | ১৮ এপ্রিল:দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্রমশ জমে উঠছে নির্বাচনী লড়াই। রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ যতই বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে জনমতের পালাবদলের ইঙ্গিত—এমনটাই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার খাগড়া কুড়িতে জনসভা করার পর থেকেই কুশমন্ডি জুড়ে বিজেপির পালে হাওয়া লেগেছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, শাসক দল ছেড়ে প্রতিদিনই কিছু সংখ্যক মানুষ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।

এর ফলে কুশমন্ডির রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রেখা রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ জমে রয়েছে, আর সেই ক্ষোভই এবার ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হতে চলেছে।কুশমন্ডির একাংশের মানুষের বক্তব্য, বর্তমান বিধায়কের কাছ থেকে প্রত্যাশিত উন্নয়ন তারা পাননি। দীর্ঘদিন ধরেই কুশমন্ডিকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষিতেই ২৩ এপ্রিলের ভোটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এবার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বিজেপির পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আমি যেখানেই প্রচারে যাচ্ছি, অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। মানুষ পরিবর্তন চাইছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাসক দলের প্রার্থী এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি এবং একাধিক ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে।তাপস রায়ের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে “ডাবল ইঞ্জিন” সরকারের মাধ্যমে কালিয়াগঞ্জ–বুনিয়াদপুর হয়ে কুশমন্ডি পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রেল প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে। তিনি মনে করেন, এই রেলপথ চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলবে। এই প্রসঙ্গে তিনি রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পাল এবং বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Sukanta Majumdar-এর যৌথ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।কুশমন্ডির বিজেপি নেতা জয়গোপাল গোস্বামী বলেন, “তাপস রায় অত্যন্ত কর্মঠ ও উদ্যমী প্রার্থী। এলাকার মানুষ তাঁর পাশে রয়েছেন। এবার তাঁকে জয়ী হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।”অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনী প্রচারে উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও বাড়ছে। তবে শেষ কথা বলবে ভোটবাক্সই। এখন দেখার, ২৩ এপ্রিলের রায়ে কুশমন্ডির মানুষ কাকে বেছে নেন এবং কোন পথে এগোয় এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ।