ভোটের বাদ্যি না কি বাঁশির সুর? কালিয়াগঞ্জে অভিনব প্রচারে নজর কাড়লেন হুমায়ুন কবিরের দলের প্রার্থী
তন্ময় চক্রবর্তী :-বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। দুর্গাপূজা থেকে ইদ—উৎসবের আমেজ এ রাজ্যে বারো মাসই লেগে থাকে। তবে সাম্প্রতিককালে এই তালিকায় এক নতুন সংযোজন হয়েছে ‘ভোট উৎসব’। আর এই উৎসবে আমজনতার মন জয় করতে রাজনৈতিক দলগুলো অবতীর্ণ হয় নানা সৃজনশীল লড়াইয়ে। কেউ হুডখোলা গাড়িতে চড়ে হাত নাড়ছেন, তো কেউ দিচ্ছেন চড়া সুরের ভাষণ।
কিন্তু উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও কাব্যিক দৃশ্য।তৃণমূল বা বিজেপি-র চেনা ছকের প্রচার নয়, কালিয়াগঞ্জের গ্রামীণ পথে এদিন শোনা গেল বাঁশির মিষ্টি সুর। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নবগঠিত দলের প্রার্থী এদিন পথে নামলেন বাঁশি হাতে আমজনতা উন্নয়ন মঞ্চের প্রার্থী অ্যাডভোকেট অঞ্জয় দেব শর্মা । তার প্রতীক বাঁশি চিহ্ন । তাঁর প্রচারের ধরণটি ছিল একেবারে স্বতন্ত্র— জনতাকে সম্বোধন করার আগে একবার বাঁশিতে ফুঁ দিচ্ছেন তিনি, আবার কথা শেষ হতেই সুর তুলে বিদায় নিচ্ছেন।প্রার্থীর দাবি, এই সুরের মাধ্যমেই তিনি মানুষের অন্তরে পৌঁছাতে চান। তাঁর কথায়, “রাজ্যে পরিবর্তনের বার্তা দিতেই এই অভিনব উদ্যোগ। বাঁশির সুর যেমন মানুষকে আকর্ষণ করে, আমাদের উদ্দেশ্যও তেমন সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা।”সাধারণত রাজনৈতিক মিছিলে গম্ভীর স্লোগান বা তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। কিন্তু এদিন কালিয়াগঞ্জের গ্রামে ছবিটা ছিল ঠিক উল্টো। প্রার্থীর বাঁশির আওয়াজ শুনে বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কচিকাঁচারা। তাদের চোখে-মুখে ছিল একরাশ বিস্ময় আর আনন্দ।বাচ্চাদের আবদার মেটাতে প্রার্থীকে দেখা গেল পকেট থেকে নতুন বাঁশি বের করে শিশুদের হাতে তুলে দিতে। এরপর দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য— একদিকে প্রার্থী বাঁশি বাজাচ্ছেন, আর অন্যদিকে কচি হাতগুলোতে ধরা বাঁশি থেকেও সুর বেরোচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোট প্রচার যেন এক আনন্দমেলায় পরিণত হলো।নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে কালিয়াগঞ্জের এই ‘মিষ্টি সুরের’ প্রচার এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, বাঁশির এই মায়াবী সুর ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

