জেলার সেরার মুকুট দিব্যজ্যোতির মাথায়, কালিয়াগঞ্জে গর্বের উৎসব—স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার
তন্ময় চক্রবর্তী :-উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের মেধাবী ছাত্র দিব্যজ্যোতি চৌধুরী এবারের সিবিএসসি মাধ্যমিক (ক্লাস টেন) পরীক্ষায় ৯৮.৬% নম্বর পেয়ে জেলার সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করল।
রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র দিব্যজ্যোতির এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকাজুড়ে।তার প্রাপ্ত নম্বরের তালিকা সত্যিই চমকপ্রদ—অঙ্কে ১০০, বিজ্ঞানে ৯৯, সমাজবিজ্ঞানে (SST) ৯৯, কম্পিউটারে ৯৮, ইংরেজিতে ৯৬ এবং বাংলায় ৯৭। প্রতিটি বিষয়েই অসাধারণ ফলাফল করে সে প্রমাণ করেছে তার অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা।এক সাক্ষাৎকারে দিব্যজ্যোতি জানায়, সে প্রতিদিন নিয়ম করে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পড়াশোনা করত। তার লক্ষ্য ছিল ভালো ফল করা, আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সে এগিয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে সে নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি সে আর্ট, আবৃত্তি এবং খেলাধুলায়ও সমান আগ্রহী—যা তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়।দিব্যজ্যোতির বাবা দেবব্রত চৌধুরী, পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক, ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত হয়ে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ও খুব নিয়মিত আর মনোযোগী। আমরা কখনও চাপ দিইনি, ও নিজে থেকেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়েছে। আজকের এই ফলাফল আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।”মা কণিকা রায়, যিনি একজন গৃহবধূ, আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “ছেলের এই সাফল্যে আমি ভীষণ খুশি। ও সবসময় পরিশ্রম করেছে, আর আমরা শুধু পাশে থেকেছি। ও যেন ভবিষ্যতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সেটাই চাই।”এদিকে, এই কৃতিত্বের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কালিয়াগঞ্জ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত সরকার তার কর্মীদের নিয়ে দিব্যজ্যোতির বাড়িতে পৌঁছে যায়। সেখানে তাকে ফুল, মিষ্টি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সুজিত সরকার বলেন, “দিব্যজ্যোতির এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, গোটা কালিয়াগঞ্জের গর্ব। আমরা আশা করি, আগামী দিনে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে জেলার নাম উজ্জ্বল করবে।”সব মিলিয়ে, দিব্যজ্যোতির এই অসামান্য সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় প্রেরণা হয়ে উঠেছে। তার এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে—নিয়মিত পরিশ্রম, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।

