ছাত্রসংখ্যা সংকটে সরকারি বিদ্যালয়, উত্তরণে পথ দেখাল কাঞ্চন পল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মশালা
রায়গঞ্জের কাঞ্চন পল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলার বিশিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে সরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও উত্তর দিনাজপুর জেলার সরকারি বিদ্যালয়গুলির বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে কর্মশালায় তুলে ধরা হয়।জানা যায়, জেলার হাতে গোনা দু’একটি সরকারি বিদ্যালয় বাদ দিলে অধিকাংশ বিদ্যালয়েই গড় ভর্তি সংখ্যা মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন। এমনকি কিছু কিছু বিদ্যালয়ে এখনও পর্যন্ত একটি শিশুও ভর্তি হয়নি। অধিকাংশ অভিভাবকই তাঁদের সন্তানদের গ্রাম ও শহরে গজিয়ে ওঠা বেসরকারি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি করাচ্ছেন।

এর ফলে আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়গুলির অস্তিত্ব নিয়েই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।কর্মশালায় জানানো হয়, সারা দেশে ছাত্রসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে প্রায় ৮৯ হাজার সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার মুখে। অন্যদিকে ২০২২ থেকে ২০২৫—মাত্র তিন বছরের মধ্যে বেসরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই কর্মশালার আয়োজন।এই কর্মশালায় বিশেষভাবে আলোচিত হয় শিক্ষা রত্ন প্রাপক শিক্ষক গৌরাঙ্গ চৌহানের লেখা বই “সরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির উপায়”। বইটি সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলা বইমেলায় বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি—তিন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। কর্মশালায় উপস্থিত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়ের জন্য ওই বইয়ের পিডিএফ সফট কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্রসংখ্যা হ্রাসের কারণে কীভাবে সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে মার্জ করা হচ্ছে, তার ফলে কীভাবে কর্মসংস্থান কমছে এবং সরকারি বিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে—সেই বিষয়গুলি নিয়ে একটি তথ্যভিত্তিক ভিডিও প্রদর্শিত হয়।কর্মশালায় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয় কাঞ্চন পল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাফল্যের কথা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে যেখানে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৫ জন থেকে বেড়ে ২০০ জনে পৌঁছেছে, সেখানে চলতি শিক্ষাবর্ষে ইতিমধ্যেই ১০০ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। বক্তাদের মতে, বইয়ে উল্লেখিত ছোট ছোট বাস্তবসম্মত পদ্ধতিগুলি যদি ছাত্রসংখ্যায় ধুঁকতে থাকা বিদ্যালয়গুলি নিজেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে, তবে তারাও আগের গৌরব ফিরে পেতে পারে। একই সঙ্গে যেসব সরকারি বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই ভালো ছাত্রসংখ্যা রয়েছে, তারাও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিকে পিছনে ফেলে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।কর্মশালার শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জেলার যেসব এলাকায় সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বা ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা কমছে, সেখানে বিশিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে এ ধরনের কর্মশালা লাগাতারভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা নতুন করে শক্ত ভিত পায়।
