প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিধায়ক মুকুল রায়ের প্রয়াণ, রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিধায়ক মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ৭১ বছর বয়সে গতকাল গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন মুকুল রায় এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন হাসপাতালে।

রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ও ভূমিকা
বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায় ছিলেন এক প্রভাবশালী ও কৌশলী নেতা। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনিক স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দল গঠনের শুরুর দিক থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এবং রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্ত ভিত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
পরবর্তীকালে জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর উত্থান ঘটে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জাহাজ ও রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
দলবদল ও বিতর্ক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন মুকুল রায়। সেই সময় তাঁর দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও পরে তিনি ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন, কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। এই বিষয়টি ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ সংক্রান্ত মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কলকাতা হাইকোর্ট বিধায়ক পদ খারিজ করলেও, সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী বিজেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোকপ্রকাশ করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, মুকুল রায় রাজ্য রাজনীতির একজন অভিজ্ঞ সংগঠক ছিলেন, যাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। বিজেপি নেতৃত্বও তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শোকজ্ঞাপন করেছে।
বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার প্রয়াণ রাজনীতির জন্য বড় ক্ষতি।
শেষ কথা
বর্ণময়, বিতর্কিত ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন মুকুল রায়। রাজ্য থেকে কেন্দ্র—দুই স্তরেই তিনি রেখে গেছেন নিজের ছাপ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।




