লক্ষ্মীর ভান্ডারে স্বনির্ভরতার উৎসব—মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে সবুজ আবিরে মেতেছেন করণদিঘীর মহিলারা
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার আজ শুধু একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের মহিলাদের আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। এক সময় সংসারের ছোটখাটো খরচের জন্য স্বামীর কাছে হাত পাততে হলেও, আজ লক্ষ্মীর ভান্ডারের কল্যাণে অনেক মহিলাই আর সেই অবস্থায় নেই।দিন দিন লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরের ‘লক্ষ্মী’দের হাতে থাকা ভান্ডারও যে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ শ্রেণির জন্য ৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য ৭০০ টাকা হওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে রাজ্যজুড়ে।এই খুশির আবহেই উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘী ব্লকে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে সবুজ আবির খেলায় মেতে উঠলেন এলাকার শত শত মহিলা। মাথায় লক্ষ্মীর ভান্ডার তুলে, একে অপরকে সবুজ আবিরে রাঙিয়ে তাঁরা যেন বার্তা দিলেন— লক্ষ্মীর ভান্ডারে আজ সারা বাংলা সবুজ।এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নিজের আঁচল বেঁধে রাজ্যের মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সুখে-দুঃখে তাঁদের সঙ্গে থেকেছেন—তা শুধু এই রাজ্যের নয়, গোটা দেশের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মহিলাদের সম্মান ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প ইতিহাস হয়ে থাকবে।”তিনি আরও বলেন,“কৃষক থেকে শ্রমিক, শ্রমিক থেকে ছাত্রছাত্রী—মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক জনমুখী প্রকল্পের সুফল আজ পাচ্ছেন রাজ্যের আপামর মানুষ।”এদিনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সভাধিপতি পম্পা পালের সঙ্গে যোগ দেন এলাকার বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম পাল। তিনি বলেন,“লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বাংলার সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছে। আগামী দিনেও এই প্রকল্প আরও বিস্তৃত হবে।”শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া এক উপভোক্তা মহিলা জানান,“আগে নিজের প্রয়োজনের জন্য কাউকে বলতে হতো। এখন লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকায় নিজের ছোটখাটো খরচ নিজেই চালাতে পারছি। এতে আমাদের সম্মান অনেক বেড়েছে।”আরেক মহিলা বলেন,“মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা ভেবেছেন বলেই আজ আমরা স্বাবলম্বী। তাই তাঁকে ধন্যবাদ জানাতেই আজ এই আবির খেলা।”সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারকে ঘিরে করণদিঘীতে যে উৎসবমুখর চিত্র উঠে এল, তা স্পষ্ট করে দিল—এই প্রকল্প শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং রাজ্যের মহিলাদের আত্মসম্মান ও স্বনির্ভরতার এক শক্ত ভিত।




