কালিয়াগঞ্জে এবার বিজেপির ‘ওভার কনফিডেন্স’ কি বুমরাং? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পাল্টে যাওয়া বাস্তবতা নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা 

তন্ময় চক্রবর্তী :– আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। একসময় যাকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে ধরা হচ্ছিল, সেই কালিয়াগঞ্জ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—বিজেপির অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কি তাদের জন্য বুমরাং হয়ে উঠতে পারে?রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গতবারের বিধানসভা নির্বাচন এবং এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। এই বাস্তবতা বুঝতে না পারাই বিজেপির বড় দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।গত বিধানসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জে বিজেপির জয় নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সেই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর কার্যত “মাটি কামড়ে” সংগঠন পুনর্গঠনের কাজে নেমেছে।

বুথ স্তর থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে নতুন করে সাজানো হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।অন্যদিকে বিজেপির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি। গতবারের জয়কে হাতিয়ার করে এবছর বিজেপি কর্মীদের মুখে মুখে ঘুরছে একটাই কথা—“কালিয়াগঞ্জ আমাদেরই, এবারও জয় নিশ্চিত।”এই মনোভাবকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ ‘ওভার কনফিডেন্স’ হিসেবে দেখছেন।কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক যুব ভোটার বলেন,“গতবার আমরা পরিবর্তনের আশায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলাম।

কিন্তু পাঁচ বছরে কতটা পরিবর্তন হয়েছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে।”তবে বিজেপি সমর্থকদের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কালিয়াগঞ্জ এখনও বিজেপির পক্ষেই রয়েছে। তাঁদের মতে, সংগঠনের ভিত মজবুত থাকায় জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস অমূলক নয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় শক্তি এবার তাদের সংগঠনিক প্রস্তুতি। গতবারের পরাজয়কে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে তারা এলাকাভিত্তিক সমস্যা, সরকারি প্রকল্পের প্রচার ও মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।এক প্রবীণ ভোটারের মন্তব্য,“এবার লড়াইটা সহজ হবে না। তৃণমূল আগের মতো ঢিলেঢালা নেই। বিজেপি যদি শুধু পুরনো জয়ের হিসাব ধরে এগোয়, তাহলে বিপদ হতে পারে।”রাজনীতিতে শেষ কথা বলে জনমত। কালিয়াগঞ্জের ভোটাররা এখন অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা আর শুধু দলীয় পরিচয় নয়, কাজের হিসাব দেখতে অন্যদিকে তৃণমূলের সামনে সুযোগ, গতবারের ক্ষত ভুলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করার।কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় শেষ হাসি কার হবে—ওভার কনফিডেন্স না সংগঠনের জোর—তার উত্তর দেবে ভোটের দিনই।