রাখির বন্ধনে মানবিকতার ছোঁয়া! পথচলতি মানুষের হাতে রাখি, মিষ্টিমুখ—কালিয়াগঞ্জে নজর কাড়ল শিবম জুয়েলারি হাউস

তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ: রাখিবন্ধন মানেই শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, ভালোবাসা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনের এক অনন্য বার্তা। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের সুকান্ত মোড়ে অবস্থিত শিবম জুয়েলারি হাউস।

রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে অটোচালকদের হাতে রাখি পরিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে সকলের মন জয় করলেন শিবম জুয়েলারি হাউসের কর্তৃপক্ষ ও মহিলা কর্মীরা।রাখিবন্ধনের দিন সুকান্ত মোড়ে দেখা যায় এক অন্যরকম ছবি। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও কর্মব্যস্ততার মাঝেই অটোচালক, পথচলতি সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে এগিয়ে যান শিবম জুয়েলারি হাউসের মহিলারা।

তাঁদের হাতে পরিয়ে দেন রাখি। এরপর মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময় করেন তাঁরা। আচমকা এমন আন্তরিক উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ।শিবম জুয়েলারি হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখিবন্ধন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার সম্পর্ক রয়েছে, রাখির সুতো সেই বন্ধনেরই প্রতীক।

তাই প্রতিষ্ঠানের চার দেওয়ালের মধ্যে উৎসব পালন না করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।প্রতিষ্ঠানের তরফে আরও জানানো হয়, “শিবম জুয়েলারি হাউস শুধু ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চায় না, মানুষের সুখ-দুঃখ ও আনন্দের মুহূর্তেও তাঁদের পাশে থাকতে চায়। রাখিবন্ধনের মতো একটি পবিত্র উৎসবে সমাজের সকল মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে আমরা আসলে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনকেই আরও শক্তিশালী করতে চেয়েছি।”কালিয়াগঞ্জের সুকান্ত মোড়ে ইতিমধ্যেই শিবম জুয়েলারি হাউস স্বর্ণ ব্যবসার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি তৈরি করেছে। কিন্তু ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরে রাখিবন্ধনের মতো সামাজিক ও মানবিক উৎসবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এভাবে সরাসরি যুক্ত হওয়ার উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।রাখি হাতে পাওয়ার পর এক অটোচালক বলেন, “আমরা সারাদিন রাস্তায় কাজ করি। উৎসবের দিনে এভাবে কেউ কাছে এসে রাখি পরিয়ে মিষ্টিমুখ করাবে, সেটা ভাবিনি। শিবম জুয়েলারি হাউসের এই উদ্যোগ সত্যিই ভালো লেগেছে। ব্যবসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কথা ভাবার এই মানসিকতা প্রশংসার যোগ্য।”আরেক পথচলতি মানুষের কথায়, “রাখি শুধু ভাই-বোনের বন্ধন নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসার প্রতীক। শিবম জুয়েলারি হাউস আজ যেভাবে সাধারণ মানুষকে আপন করে নিয়েছে, সেটি সত্যিই সুন্দর উদ্যোগ। এমন আয়োজন আরও হওয়া উচিত।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক মহিলার বক্তব্য, “আজকের দিনে মানুষ যেখানে নিজের ব্যস্ততায় ব্যস্ত, সেখানে একটি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের জন্য সময় বের করে তাঁদের হাতে রাখি পরিয়ে মিষ্টিমুখ করাচ্ছে—এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়।”সাধারণ মানুষের কথায়, শিবম জুয়েলারি হাউসের এই আয়োজন শুধুমাত্র রাখি পরানোর অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন তৈরি করার এক সুন্দর প্রয়াস।রাখির রঙিন সুতোয় এদিন যেন ব্যবসা ও ক্রেতার সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে তৈরি হলো মানুষে-মানুষে ভালোবাসার এক নতুন বন্ধন। আর সেই কারণেই কালিয়াগঞ্জের সুকান্ত মোড়ে শিবম জুয়েলারি হাউসের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পথচলতি মানুষের পাশাপাশি শহরবাসীরও প্রশংসা কুড়িয়েছে।