ভোটের বাদ্যি উত্তর দিনাজপুরে: ৯ আসনে অস্তিত্বের লড়াই, কার দখলে যাবে উত্তরবঙ্গের এই প্রবেশদ্বার?

তন্ময় চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: ক্যালেন্ডারের পাতায় বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরেই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যেমন তাদের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে মরিয়া, তেমনই প্রধান বিরোধী দল বিজেপি পালটা মেরুকরণ এবং দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করে জমি শক্ত করতে চাইছে।

 

৯ আসনের সমীকরণ: এক নজরে

গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক মানচিত্র মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। ইসলামপুর মহকুমার চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া এবং করণদিঘিতে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান থাকলেও, রায়গঞ্জ মহকুমার রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ এবং হেমতাবাদের মতো এলাকাগুলোতে বিজেপি কড়া টক্কর দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে।

  • তৃণমূলের রণকৌশল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’ এবং সাম্প্রতিক ‘তৃণমূলের নবজোয়ার’ কর্মসূচির সুফল ঘরে তুলতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত উত্তর দিকের আসনগুলিতে আধিপত্য বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
  • বিজেপির পাল্টা চাল: অন্যদিকে, বিজেপি প্রধানত রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক এবং সিএএ (CAA) ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জ বেল্টে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চাইছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বঞ্চনা এবং স্থানীয় দুর্নীতির অভিযোগই তাদের প্রচারের মূল অস্ত্র।

এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যুসমূহ

এবারের নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভোট হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা:

১. উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প: রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো কতটা তৃণমূলকে ডিভিডেন্ড দেবে, সেটাই দেখার।

২. পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা: উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে প্রচুর শ্রমিক বাইরে কাজ করতে যান। তাদের কর্মসংস্থান এবং সুরক্ষা নিয়ে বিরোধীরা সরব হচ্ছে।

৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতি: একদিকে যেমন এনআরসি-সিএএ আতঙ্ক বা আবেগ কাজ করছে, অন্যদিকে তেমনি রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে নিজের দিকে টানতে মরিয়া সব পক্ষই।

লড়াইয়ের ময়দানে বাম–কংগ্রেস

তৃণমূল ও বিজেপির দ্বি-মুখী লড়াইয়ের মাঝেই কিন্তু অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বাম-কংগ্রেস জোটও। চাকুলিয়া বা গোয়ালপোখরের মতো এলাকায় তারা যদি ভোট কাটে, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বড় দুই দলের জয়-পরাজয়ের ব্যবধানে।ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পাড়ায় পাড়ায় বৈঠক, দেওয়াল লিখন এবং ছোট ছোট সভা। উত্তর দিনাজপুরের ৯টি আসনই কার দখলে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার শেষ নেই। দিনহাটা থেকে কালিয়াগঞ্জ— সর্বত্রই এখন একটাই প্রশ্ন: ‘উন্নয়ন’ না ‘পরিবর্তন’, শেষ হাসি হাসবে কে?