নিরঞ্জনের ঘাটে রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি! বিজেপি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের এক মঞ্চে আড্ডা, শ্রীমতি ঘাটে দীর্ঘক্ষণ তদারকিতে পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পাল
তন্ময় চক্রবর্তী :- দুর্গাপুজোর বিদায়লগ্নে কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতি ঘাটে শুধু প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে মানুষের ঢলই নয়, নজর কাড়ল রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অন্য ছবিও। পৌরসভার উদ্যোগে তৈরি মঞ্চে বিজেপি কাউন্সিলরদের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন কাউন্সিলরকে দীর্ঘক্ষণ বসে আড্ডা দিতে দেখা গেল।
রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা সরিয়ে রেখে জনপ্রতিনিধিদের এই একসঙ্গে সময় কাটানোর দৃশ্য ঘাটে উপস্থিত মানুষের নজর কাড়ে। অন্যদিকে, নিরঞ্জন পর্বের সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে দীর্ঘক্ষণ ঘাটে উপস্থিত থাকলেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পাল।প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতি ঘাটে হাজির হন হাজার হাজার মানুষ।

উৎসবের শেষলগ্নে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘাটজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। কোথাও প্রিয় উমাকে বিদায় জানানোর বিষাদ, কোথাও আবার আগামী বছরের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে শ্রীমতি ঘাটে ছিল দুর্গোৎসবের শেষ দিনের পরিচিত আবহ।এই ব্যস্ততার মধ্যেই বিশেষভাবে নজরে পড়ে পৌরসভার তৈরি করা মঞ্চটি। সেখানে বিজেপির কাউন্সিলরদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন কাউন্সিলরকে পাশাপাশি বসে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিচিত ছবির বাইরে এই দৃশ্য যেন তুলে ধরল স্থানীয় স্তরে জনপ্রতিনিধিদের পারস্পরিক সৌজন্যের একটি মুহূর্ত। নিরঞ্জনের মঞ্চে দুই রাজনৈতিক শিবিরের কাউন্সিলরদের এমন একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।এদিকে, নিরঞ্জন পর্ব যাতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায় পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পালকে।

দীর্ঘক্ষণ শ্রীমতি ঘাটে উপস্থিত থেকে তিনি গোটা ব্যবস্থাপনার উপর নজর রাখেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে নিরঞ্জন ঘিরে যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার বিভিন্ন দিকও খতিয়ে দেখেন তিনি।
সাংসদ তথা পৌরপতির এই উপস্থিতি নিরঞ্জন পর্বের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কালিয়াগঞ্জ পৌরসভায় বিজেপি পরিচালিত বোর্ড গঠিত হয়েছে। বর্তমানে পৌরপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কার্তিক চন্দ্র পাল। তাঁর নেতৃত্বে নিরঞ্জন পর্বকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি ঘাটের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দিকেও নজর দেওয়া হয়।নিরাপত্তার দিক থেকে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ প্রশাসনকেও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে দেখা যায়। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ঘাটে নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি, নিরঞ্জন পর্বের পর ঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পৌরসভার সাফাইকর্মীদেরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যায়।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এবারের নিরঞ্জন পর্ব যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট। এই ব্যবস্থাপনার জন্য তাঁরা পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পাল, পুলিশ প্রশাসন এবং পৌরসভার সাফাইকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।সব মিলিয়ে কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতি ঘাটে এবারের নিরঞ্জন পর্বে দুটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কাড়ল—একদিকে পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পালের দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থেকে ব্যবস্থাপনা তদারকি, অন্যদিকে বিজেপি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের একই মঞ্চে পাশাপাশি বসে আড্ডা দেওয়ার ছবি। প্রতিমা নিরঞ্জনের আবেগঘন পরিবেশে এই দুই দৃশ্যই হয়ে উঠল দিনের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।

