দেড়শো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তোলাবাজির টাকা ‘লুকিয়ে’ রেখেছিলেন সব্যসাচী

যতই দিন যাচ্ছে ততোই প্রকাশ্যে আসছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তর চুরির বহর। এমন বহু সব্যসাচী হয়তো মমতার আদরে বেড়ে উঠেছিল। এবার একে একে সব সামনে আসছে। তোলাবাজির টাকাকে সাদা করতেও অভিনব পন্থা নিয়েছিলেন ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র বক্তব্য, কালো টাকাকে সাদা করতে ভারতীয় মুদ্রাকে মার্কিন ডলারে বদলে নিয়েছিলেন ধৃত তৃণমূল নেতা। সব্যসাচীর তোলাবাজির কোটি কোটি টাকাও ফ্রিজ করল ইডি। দেড়শো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তোলাবাজির টাকা ‘লুকিয়ে’ রেখেছিলেন সব্যসাচী। তৃণমূল এই নেতা ও তাঁর সঙ্গীদের ১৫০ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে রাখা ১৪ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ইডি। এছাড়াও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ১৭ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারও বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, সব্যসাচী বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থা মারফত তোলাবাজির টাকাকে সাদা করার চেষ্টা করেছেন। কালো টাকাকে সাদা করতে ভারতীয় মুদ্রাকে মার্কিন ডলারে বদলে নিয়েছিলেন।

গত ৮ জুন রাতে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচীকে। আর তাঁকে গ্রেফতারের পরই একের পর এক তথ্য সামনে আসতে থাকে। তদন্তে নেমে তাঁর ৫০ কেজি সোনা কেনার নথিও পান তদন্তকারী। নদিয়ার করিমপুরে তাঁর এক বান্ধবীর সন্ধান পাওয়া যায়। ওই বান্ধবীর বাড়িতে হানা দিয়ে ৩ কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। সব্যসাচী বিধাননগর পৌরনিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। সেখানকার দোকানদারদের অভিযোগ, দোকানগুলি থেকে প্রতি মাসে ৫-৬ হাজার টাকা তোলা নিতেন সব্যসাচীর লোকজন। ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়েও তোলাবাজি করতেন বলে অভিযোগ। যে ব্যবসায়ীর অভিযোগে সব্যসাচীকে গ্রেফতার করা হয়, তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর কাছ থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক কোটি টাকা তোলা আদায় করেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।