দুর্গাপুজোর আগেই রাধিকাপুরে রেল পরিকাঠামোর বড় সুখবর! দ্রুত এগোচ্ছে লুপ লাইন, শিক লাইন ও নতুন রেল প্রকল্পের কাজ
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ | ৫ আগস্ট:উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাধিকাপুর রেল স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে নতুন গতি এসেছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই রাধিকাপুর রেল স্টেশনের লুপ লাইন ও শিক (সিক) লাইনের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) কিরেন্দ্র নারা রাধিকাপুর ও কালিয়াগঞ্জ রেল স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই আশাব্যঞ্জক বার্তা দেন।ডিআরএম জানান, রাধিকাপুর স্টেশনের উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জ রেল স্টেশনের যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলিও নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই এগিয়ে চলেছে।দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত কালিয়াগঞ্জ–বুনিয়াদপুর নতুন রেললাইন প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। ডিআরএম জানান, জমি অধিগ্রহণের নোটিশ ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে এবং আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু প্রতীক্ষিত এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিন তিনি আরও জানান, রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পালের উদ্যোগে রেলমন্ত্রীর কাছে ডালিমগাঁও রেল স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডালিমগাঁও রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের ইতিবাচক খবর মিলেছে।যদিও ডিআরএমের দুপুর ১টায় কালিয়াগঞ্জে পৌঁছানোর কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে তিনি প্রথমে রায়গঞ্জ থেকে সরাসরি রাধিকাপুর স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ রেল স্টেশনের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প খতিয়ে দেখেন।রাধিকাপুর স্টেশনের পরিদর্শন শেষে তিনি কালিয়াগঞ্জ রেল স্টেশনে এসে স্টেশন ম্যানেজার পঙ্কজ কুমারের সঙ্গে স্টেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।রেল সূত্রে জানা গেছে, রাধিকাপুর, কালিয়াগঞ্জ ও ডালিমগাঁও—এই তিনটি স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর দিনাজপুর জেলার রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন রেল আধিকারিকরা।


