দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে জোর—ইসলামপুরে ফিরে ‘চায় পে চর্চা’য় শিক্ষা ও দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী
দেবব্রত চক্রবর্তী ইসলামপুর :-দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক সেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামপুরে পৌঁছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘চায় পে চর্চা’-য় অংশ নিলেন রাজ্যের শিক্ষা ও দমকল প্রতিমন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী।

দিল্লির বৈঠকের পর সরাসরি ইসলামপুর বাস টার্মিনাসে এসে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটানোর এই মুহূর্ত ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ইসলামপুর বাস টার্মিনাসে মন্ত্রীর গাড়ি পৌঁছাতেই বিজেপির কর্মী ও সমর্থকেরা ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে চা পান করেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই অনানুষ্ঠানিক আড্ডাই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, শুক্রবার দিল্লিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকে তিনি উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও উন্নয়নমূলক বিষয় তুলে ধরেন।তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘চিকেন নেক’ করিডর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক উন্নয়নের একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যার বিষয়গুলিও তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরেন।প্রতিমন্ত্রীর কথায়,
“প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা আমি তাঁদের সামনে তুলে ধরেছি। তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলি শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে এই সমস্যাগুলির সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছেন।”তিনি আরও বলেন,“উত্তরবঙ্গ দেশের প্রবেশদ্বার। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উত্তরবঙ্গকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।”দিল্লির বৈঠকের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কৌশিক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি অত্যন্ত অনুপ্রাণিত ও অভিভূত। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রের ইতিবাচক মনোভাব তাঁকে আশাবাদী করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পাবেন। ইসলামপুরে তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ দেখা যায়। অনেকেই তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রীও সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে কথা বলেন এবং মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ইসলামপুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক কাপ চায়ের আড্ডা—এই দুই ভিন্ন পরিসরকে একসূত্রে গেঁথে প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর সফর রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
