তামিলনাড়ু এবং কেরালায় পাড়ি দিচ্ছে রুয়া নগরের টুলু ও নন্দি সরকারের হাতের বানানো গেমারি কাঠের মুখাও নৌকা
তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ,উত্তর দিনাজপুর ২০ নভেম্বর:দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মহিষবাথান গ্রাম হস্ত শিল্পের জন্য শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বিখ্যাত নয় মহিষ বাথানের হস্ত শিল্প রাজ্য পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে।রুযানগর গ্রামের শংকর সরকার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মুখা শিল্পের জনক বলেই সবার কাছে পরিচিত।প্রয়াত বিশিষ্ট মুখা শিল্পী শংকর সরকারের হাতেই মহিষবাথান শিল্প সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠা হলেও বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মহিষবাথান শিল্প সমবায় সমিতির গোডাউন কাম ওয়ার্কশপ তৈরি করা হয়।এক সময় এই শিল্প সমবায় সমিতিতেই কাজ করতো রুয়ানগরের বাসিন্দা টুলু সরকার এবং নন্দি চন্দ্র সরকার।কিন্তু সারাদিন পরিশ্রম করেও

সেই ভাবে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় এক সময় শিল্প সমবায় সমিতি।থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে নিজের বাড়িতে দুই ভাই এবং দুই ভাইয়ের পরিবার যথাক্রমে পুতুল দেবশর্মা সরকার এবং কবিতা সরকারসবাই মিলে এমন সব হস্ত শিল্পের কাজ করছে যা দেখলেই বাড়িতে নিয়ে যাবার ইচ্ছা করবে।সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রুয়ানগর গ্রামে এই প্রতিবেদক গিয়ে দেখেন প্রতিষ্ঠিত হস্তশিল্পী টুলু সরকার বলেন ছয় বছর বয়স থেকে বাবার কাছে থেকে এই সমস্ত কাজ আমরা দুই ভাই হস্তশিল্পের বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখেছি। টুলু সরকার এবং নন্দি চন্দ্র সরকার বলেন তারা কেও কেরালা আবার কেউ তামিলনাড়ু থেকে কাজের বরাত পেয়ে কাজ করছি। স্বাধীন ভাবে কাজ করার আনন্দই আলাদা। হস্ত শিল্পী টুলু সরকার বলেন তিনি কেরালা থেকে গামারি কাঠের নৌকা বানানোর বরাত পেয়েছেন।এই রাজ্যের চেয়ে ভিন রাজ্যে আমাদের হাতের তৈরি জিনিসের দাম অনেক বেশি।আমাদের রাজ্যে আমাদের তৈরি জিনিসের দাম আমরা সঠিক না পেলেও ভিন রাজ্যে আমাদের হস্তশিল্পের দাম অনেক বেশি। হস্তশিল্পী নন্দি চন্দ্র সরকারের স্ত্রী পুতুল দেব শর্মা সরকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই তার শশুর বাড়িতে হস্ত শিল্পের কাজ চলতো।আমি আসার পরে আমিও কাজ শিখে এখন স্বামীকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে থাকি।ঠিক একই রকম ভাবে হস্তশিল্পী টুলু সরকারের স্ত্রী কবিতা সরকার বলেন স্বামীর বাড়িতে এসেই হস্ত শিল্পের পাঠ নিয়েছি।এখন স্বামীর সাথে হাতেহাত লাগিয়ে অনেক কিছুই করতে পারি।তিনি বলেন আমরা দুই বউ ঘরের সমস্ত কাজ ,। স্বামীকে সাহায্য করে থাকি।জানা যায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হস্ত শিল্পীরা কলকাতার হস্ত শিল্প মেলায় যাবার জন্য প্রচুর পরিমাণে তাদের হাতের তৈরি সৌখিন হস্তশিল্প নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিতে চলেছে।





