গ্রাহক পরিষেবা বাড়াতে রায়গঞ্জ পোস্ট অফিসের অভিনব উদ্যোগ, বসেছে বিশেষ শিবির

সাধারণ মানুষকে আরও দ্রুত ও উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল রায়গঞ্জ মুখ্য ডাকঘর। গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিষেবা সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে মূল ডাকঘরের বাইরে খোলা হয়েছে অতিরিক্ত কাউন্টার ও বিশেষ শিবির। এই শিবিরের মাধ্যমে বহু মানুষকে পরিষেবা প্রদান করেছেন ডাক বিভাগের কর্মীরা।ডাকঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে আধার কার্ড সংশোধন বা নতুন কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের প্রবল ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই চাপ সামলাতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রায়গঞ্জ মুখ্য ডাকঘরে অতিরিক্ত আরও একটি আধার সংশোধন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি করণদিঘি ও টুনগিদিঘি ডাকঘরেও একটি করে আধার কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি কাউন্টারে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন গ্রাহক আধার সংক্রান্ত কাজ করতে পারবেন।

 

 

উত্তর দিনাজপুর ডিভিশনের ডাক বিভাগের আধিকারিক অশোককুমার দাস জানান, ডাকঘর যে কেবল চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং এখানে বিবিধ সঞ্চয় প্রকল্প ও জীবনবিমার সুযোগ রয়েছে— সেই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন। তিনি বলেন:”পিপিএফ অ্যাকাউন্ট যে পোস্ট অফিসেও খোলা যায়, তা অনেকে জানেন না।

 

কিষাণ বিকাশপত্র, রেকারিং ডিপোজিট এবং বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের জন্য ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’ সম্পর্কে গ্রাহকদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হচ্ছে এই শিবিরের মাধ্যমে।”শিবিরে আসা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। রায়গঞ্জ ব্লকের মাড়াইকুড়া এলাকা থেকে আসা শেফালি বর্মন জানান, আধার কার্ডের সমস্যার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরছিলেন, কিন্তু এই বিশেষ কাউন্টার চালুর ফলে খুব সহজেই তাঁর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, বীরঘইয়ের বাসিন্দা সত্যেন রায় জানান, সঞ্চয় প্রকল্পের সুবিধা জানতে এসে তিনি এই শিবির থেকেই তাঁর মেয়ের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ডাকঘর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা যাতে উপভোক্তারা সরাসরি ইন্ডিয়ান পোস্ট পেমেন্ট ব্যাংকের (IPPB) মাধ্যমে পেতে পারেন, তার জন্য জোরদার প্রচার চালানো হচ্ছে। লিঙ্ক বা সার্ভার সমস্যার বিষয়ে আধিকারিকরা জানান, সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে এবং শাখা ডাকঘরগুলোতেও দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।