গণতন্ত্রের নামে সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্থা, ইটাহারে SIR হেয়ারিং ক্যাম্পে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধায়ক মোশারফ হোসেন

তন্ময় চক্রবর্তী: গণতন্ত্রের উৎসবে কি শুধুই সাধারণ মানুষের হয়রানি? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে। SIR (Special Investigation Report) হেয়ারিং-এর নামে সাধারণ মানুষকে বারবার লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করার বিরুদ্ধে এবার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন।​

রবিবার সুরুন-২ অঞ্চলের বালিজোল R.A. হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হেয়ারিং ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন বিধায়ক। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সচক্ষে দেখে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেন।২০১৬ বনাম ২০২৬পরিদর্শন শেষে বিধায়ক মোশারফ হোসেন অত্যন্ত হতাশ হয়ে বলেন, “যা দেখলাম তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

২০১৬ সালে যে মানুষগুলোকে রোদে-জলে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রমাণ করতে হয়েছিল, ২০২৬ সালেও এসে ঠিক সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ১০ বছর পরও কেন সাধারণ মানুষকে একইভাবে হেনস্থা হতে হবে?”​উল্লেখ্য, ইটাহারে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে মোট ৮টি স্থানে এই হেয়ারিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করিয়েছেন বিধায়ক।

 

 

কিন্তু সেখানেও মানুষের ভিড় এবং দুর্ভোগ দেখে তিনি ক্ষুব্ধ।​রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ​বিধায়ক সরাসরি আঙুল তুলেছেন বিজেপি এবং কংগ্রেসের দিকে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে বিজেপি এবং তাদের দোসর কংগ্রেস হাত মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে এই সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন:​”SIR-এর নামে পরিকল্পিত চক্রান্ত করে সাধারণ মানুষকে ফের হয়রানির শিকার করা হচ্ছে।রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা হচ্ছে—এটা গণতন্ত্রের চরম অপমান।”​জনসাধারণের পাশে থাকার বার্তাসাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোশারফ হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ইটাহারের মানুষ এই নোংরা চক্রান্তের রাজনীতি কখনোই মেনে নেবে না। বারবার কেন নিজের অধিকার প্রমাণের জন্য মানুষকে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে হেনস্থা হতে হবে? আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছি। এই অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবেই।” ✊এদিন ক্যাম্পে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথেও কথা বলেন বিধায়ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন যাতে দ্রুততার সাথে এবং কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই সাধারণ মানুষের কাজ সম্পন্ন করা হয়