কালিয়াগঞ্জে নব্য বনাম পুরনো বিজেপির সংঘাত তুঙ্গে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে কি অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির?
তন্ময় চক্রবর্তী :-উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে বিজেপির অন্দরমহলে নব্য ও পুরনো কর্মীদের মধ্যে সংঘাত যেন পিছু ছাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে বুথ স্তরের সংগঠন—সব ক্ষেত্রেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিভাজনের রেখা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।একসময় কালিয়াগঞ্জে বিজেপির সংগঠন যাঁরা নিজেদের ঘাম ও পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন, সেই পুরনো কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দলে সাম্প্রতিক সময়ে যোগ দেওয়া নব্য নেতৃত্বই এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে। তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর লড়াই-সংগ্রামের মূল্যায়ন না করেই প্রার্থী নির্বাচন, কর্মসূচির রূপরেখা এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে।পুরনো বিজেপি কর্মীদের কথায়,“আমরা তখন রাস্তায় ছিলাম, যখন দলে লোক ছিল না।

এখন ভোট এলেই নব্যরা সব জায়গায় এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।”অন্যদিকে, নব্য বিজেপি কর্মীরা এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে দলকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন।নব্য কর্মীদের বক্তব্য,“দল বড় হয়েছে বলেই নতুন মানুষ এসেছে। পুরনোরা পরিবর্তন মানতে না পারলে সংগঠন এগোবে কীভাবে?”এই নব্য বনাম পুরনো দ্বন্দ্বের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির উপর। একাধিক এলাকায় কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি, বুথ কমিটিতে সমন্বয়ের অভাব এবং প্রচারের সময় একে অপরের বিরুদ্ধে চাপা অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমনকি কেউ কেউ প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিতেও পিছপা হচ্ছেন না।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালিয়াগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে যদি বিজেপি ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের লড়াইয়ে নামতে না পারে, তাহলে তার সরাসরি লাভ পেতে পারে বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম-কংগ্রেস জোট এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলেই খবর।এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মন্তব্য,“ভোটের আগে দলের অন্দরকলহ সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কালিয়াগঞ্জে বিজেপি যদি নব্য ও পুরনোদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে না পারে, তাহলে নির্বাচনী ফলাফলে তার বড় প্রভাব পড়বে।”সব মিলিয়ে, কালিয়াগঞ্জে নব্য বনাম পুরনো বিজেপির এই সংঘাত শুধু দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং আগামী বিধানসভা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরের জন্য এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।






