উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশ করে স্বচ্ছতার নতুন দৃষ্টান্ত রায়গঞ্জে—কৃষ্ণ কল্যাণী
তন্ময় চক্রবর্তী :- রাজনীতির ময়দানে গালভরা প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেন, কিন্তু কাজের হিসেব ক’জন দেন? সেই গতানুগতিক ধারা ভেঙে রায়গঞ্জ বিধানসভায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। উত্তর দিনাজপুর জেলার তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে প্রথমবার নিজের কাজের খতিয়ান বই আকারে সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করলেন তিনি। উন্নয়নের এই ‘রিপোর্ট কার্ড’ ঘিরে উত্তরবঙ্গজুড়েই এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

গ্রামের রাস্তা থেকে শহরের আলো বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের (BEUP) টাকা কোন এলাকায়, কী ভাবে এবং কতটা খরচ হয়েছে, তার পাই-পাই হিসেব বইটিতে উল্লেখ করেছেন বিধায়ক। রায়গঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে পানীয় জল, পাকা রাস্তা এবং কালভার্ট নির্মাণ। শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোকস্তম্ভ (High Mast Light) স্থাপন।

স্থানীয় স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি হস্তক্ষেপ। সাধারণ মানুষের মতে, কৃষ্ণ কল্যাণী কেবল একজন বিধায়ক নন, তিনি বিপদের বন্ধু। করোনাকাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক যে কোনও সংকটে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রায়গঞ্জবাসীর বক্তব্য— ”আমরা এমন একজন মানুষকে বেছে নিয়েছি, যিনি শুধু ভোটের সময় হাত জোড় করেন না, বরং সারা বছর আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। এই প্রথম কোনো বিধায়ক নিজে থেকে আমাদের হিসেব দিয়ে গেলেন যে তিনি কী কাজ করেছেন।”

নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন: ”আমি রায়গঞ্জের মানুষের সেবক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় আমি মানুষের জন্য কাজ করি। উন্নয়নের নিরিখে রায়গঞ্জকে এক নম্বর করাই আমার লক্ষ্য। এই রিপোর্ট কার্ড আমার দায়বদ্ধতার প্রমাণ। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাই তাঁদের জানার পূর্ণ অধিকার আছে যে তাঁদের জন্য বরাদ্দ অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে।২৬-এর নির্বাচনের আগে নয়, আমি বিশ্বাস করি সারা বছর মানুষের পাশে থাকাতে।”

রাজনীতির আঙিনায় নতুন সমীকরণ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণধ্বনি বাজতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, এই রিপোর্ট কার্ড প্রকাশের মাধ্যমে কৃষ্ণ কল্যাণী অনেকটাই এগিয়ে গেলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁর এই ‘স্বচ্ছতা’ তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তিকে যেমন উজ্জ্বল করেছে, তেমনি বিরোধীদের সামনে ছুড়ে দিয়েছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।শিল্পপতি হিসেবে সাফল্যের পর জনসেবার ময়দানেও কৃষ্ণ কল্যাণী যেভাবে নিজেকে ‘মানবিক মুখ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাতে রায়গঞ্জের মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান এখন আরও সুদৃঢ়





