উত্তর দিনাজপুরে রেলের পরিকাঠামোয় ঐতিহাসিক সাফল্য,সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের উদ্যোগে ৫০৩.৪৯ কোটি টাকায় একাধিক রোড ওভারব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন
তন্ময় চক্রবর্তী রায়গঞ্জ | ৮ মে :উত্তর দিনাজপুর জেলার রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড়সড় সাফল্য এল। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল-এর নিরলস প্রচেষ্টায় জেলাজুড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল রোড ওভারব্রিজ (ROB) নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে অনুমোদন মিলেছে।

এই প্রকল্পগুলির জন্য মোট ৫০৩.৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন রেলগেট এলাকায় যানজট, দুর্ঘটনা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। বিশেষ করে ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ রেলগেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হত। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকেই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল।সূত্রের খবর অনুযায়ী, যেসব এলাকায় রোড ওভারব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল—
- রায়গঞ্জ-বামনগ্রাম
- কালিয়াগঞ্জ-ডালিমগাঁও
- কানকি-সূর্যকমল
- গুঞ্জরিয়া-আলুয়াবাড়ি এলাকায় দুটি রোড ওভারব্রিজ
- এছাড়াও সূর্যকমল-কানকি এলাকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে।জেলার মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল এই রোড ওভারব্রিজগুলি নির্মাণের। কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে রেলগেট পারাপারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হত। অনেক সময় অ্যাম্বুল্যান্স আটকে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, “উত্তর দিনাজপুর জেলার উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ধারাবাহিকভাবে দাবি জানানো হয়েছিল। অবশেষে ৫০৩.৪৯ কোটি টাকার এই বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এতে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নিরাপদ হবে।”তিনি আরও বলেন, এই ওভারব্রিজগুলি নির্মাণ হয়ে গেলে যানজট কমবে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল আরো বলেন এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে তাই আর কোন চিন্তা নেই জেলায় পড়ে থাকা সাধারণ মানুষের স্বপ্ন যেগুলো রয়েছে সেগুলো এখন একের পর এক বাস্তবায়িত হবে এই নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। জমি জটের আর কোন সমস্যা নেই।জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল মনে করছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর দিনাজপুরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। বিশেষ করে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলেই আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।

