৫৫০ কোটির উন্নয়ন কাজে ভরসা’—রায়গঞ্জে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কৃষ্ণ কল্যাণী
তন্ময় চক্রবর্তী :- “শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষের প্রত্যাশা পূরণই আমার লক্ষ্য”—এই বার্তাকেই সামনে রেখে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ফের নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। গত পাঁচ বছরে উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি এবারও জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।স্থানীয় মহলের মতে, বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রায়গঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছেন কৃষ্ণ। বিধায়ক তহবিলের সিংহভাগ অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।কৃষ্ণ কল্যাণীর বক্তব্য, “বিধায়ক হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করাটাই আমার কর্তব্য।

বিগত বছরগুলোতে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। তাই মানুষ আমার পাশে থাকবে বলেই আমি আশাবাদী।”রাজনৈতিক জীবনে তাঁর পথচলাও বেশ চড়াই-উতরাইপূর্ণ।
২০২১ সালে প্রথমবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও ছ’মাসের মধ্যেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হলেও জয় পাননি। তবে একই বছরে উপনির্বাচনে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে জিতে ফের বিধায়ক হন।স্থানীয়দের একাংশের মতে, পেশাদার রাজনীতিবিদ না হলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে শহরের যানজট সমস্যা কমাতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে শিলিগুড়ি মোড়ে নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রায় ৩ কোটি টাকার অনুমোদনের পাশাপাশি বিধায়ক তহবিল ও সুডার অর্থেও এই প্রকল্প এগোচ্ছে।উন্নয়নের তালিকায় রয়েছে—বাহিন-ট্যাগড়া ব্রিজ নির্মাণ, শ্মশান ও কবরস্থানের উন্নয়ন, পানীয় জলের ব্যবস্থা, নদীর পাড় বাঁধানো, নিকাশিনালা তৈরি এবং গ্রামাঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ।
শহরের করোনেশন স্কুলের অডিটোরিয়াম সংস্কারও হয়েছে। পাশাপাশি বিধায়ক কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৩ লক্ষের বেশি মানুষকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সহায়তা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।পরিসংখ্যান তুলে ধরে কৃষ্ণ জানান, মোট ৬৭৩টি নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ১০৯টি বড় রাস্তায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৬৩টি নিকাশিনালা নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৭ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ২.৮ কোটি টাকায় ট্যাগরা ব্রিজ নির্মাণ, ৪.৫ কোটি টাকায় রহমতপুর-এলেঙ্গিয়া রাস্তা, এবং রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে। কৃষকদের জন্য পাইপ, সোলার সিস্টেম ও উন্নত সেচ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ছত্রপুরে বৃদ্ধদের জন্য আবাসন প্রকল্পের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে। এছাড়াও শহর ও গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য আরও ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে জানান তিনি।যদিও এই সব দাবিকে মানতে নারাজ বিরোধীরা। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, “অনেক কাজের দাবি করা হলেও বাস্তবে মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।
বর্ষায় এখনও শহর জলে ডুবে থাকে, নিকাশি ব্যবস্থার মানও সন্তোষজনক নয়।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনওয়ারুল হকের মন্তব্য, “রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাজকে নিজের কৃতিত্ব বলা ঠিক নয়। বিধায়ক তহবিল থেকে কী কাজ হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।” জেলা কংগ্রেস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি।সব মিলিয়ে উন্নয়ন বনাম বাস্তবতার প্রশ্নকে সামনে রেখেই রায়গঞ্জে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, উন্নয়নের এই দাবির ওপর ভরসা রাখেন কি না রায়গঞ্জের ভোটাররা।

