“স্ক্যানার জালিয়াতিতে চাঞ্চল্য কালিয়াগঞ্জে! গ্রাহকের টাকা যাচ্ছে অন্য অ্যাকাউন্টে, সতর্ক ব্যবসায়ীরা”
তন্ময় চক্রবর্তী :- উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে এক চাঞ্চল্যকর স্ক্যানার জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। ডিজিটাল লেনদেনের এই যুগে যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ফোন পে, গুগল পে বা অন্যান্য UPI অ্যাপের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করছেন, সেখানে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা নতুন করে ভাবাচ্ছে সকলকে।ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াগঞ্জের শিমুলতলা এলাকায় একটি পানের দোকানে।

দোকানের মালিক সরূপ কুন্ডু জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের কাছ থেকে বারকোড স্ক্যানারের মাধ্যমে টাকা নিতেন। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন তিনি লক্ষ্য করেন, তার দোকানে রাখা স্ক্যানারের উপর আরেকটি বারকোড স্টিকার লাগানো রয়েছে। বিষয়টি প্রথমে তেমন গুরুত্ব না দিলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, স্ক্যান করলে টাকার গন্তব্য বদলে যাচ্ছে।সরূপবাবুর কথায়, “আমি তো প্রতিদিন এই স্ক্যানার ব্যবহার করি। কিন্তু হঠাৎ দেখি, আমার মূল বারকোডের ওপর অন্য একটি বারকোড লাগানো। সেটি স্ক্যান করলে অন্য একটি নাম দেখাচ্ছে। তখনই বুঝতে পারি কিছু একটা গোলমাল হয়েছে।”প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি জালিয়াত চক্র দোকানে এসে অজান্তেই মূল স্ক্যানারের ওপর নিজেদের বারকোড স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে যায়। ফলে গ্রাহকরা টাকা পাঠালেও তা দোকানদারের অ্যাকাউন্টে না গিয়ে সরাসরি প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সরূপ কুন্ডু ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইম বিভাগে অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, কারণ অনেকেই এখন ডিজিটাল পেমেন্টের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে নিয়মিত স্ক্যানার পরীক্ষা করা, নিজের নাম ঠিকভাবে দেখাচ্ছে কি না তা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।ডিজিটাল লেনদেন যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনই এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ধরনের ঝুঁকিও। তাই সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে এই ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে—এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

