রোগীর মৃত্যুর পর ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে তাণ্ডব! ভাঙচুর, চিকিৎসক-নার্সকে মারধরের অভিযোগ, পুলিশি হস্তক্ষেপে উত্তেজনা

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে মৃত রোগীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসলামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী হাসপাতালে পৌঁছালে পুলিশকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়া সীমান্তবর্তী বিহার এলাকার বাসিন্দা ফিরোজা খাতুন (বয়স্ক) শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছাতেই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে মৃতার আত্মীয়-পরিজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ-সহ একাধিক জায়গায় ভাঙচুর চালান। হাসপাতালের আসবাবপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মৃগাঙ্ক শেখর বোস, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আকস্মিক এই ঘটনায় হাসপাতালের অন্যান্য রোগী, তাঁদের পরিজন এবং কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ইসলামপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই সময় উত্তেজিত কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।এই ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালের ভিতরে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাঁদের সঠিকভাবে জানানো হয়নি এবং চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হবে।এদিকে ইসলামপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।