রায়গঞ্জে AIIMS-এর স্বপ্নপূরণের ঘোষণায় উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ! মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর ঢাকের তালে সাংসদ কার্তিক পাল, তিন মন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্বের নাচ, আতশবাজিতে আগাম দীপাবলি উদযাপন শহরজুড়ে!

 

তন্ময় চক্রবর্তী:- রায়গঞ্জে এইমস (AIIMS) হাসপাতাল গড়ার প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর কথা প্রকাশ্য জনসভা থেকে ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই ঘোষণাকে ঘিরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনন্দে ফেটে পড়ল রায়গঞ্জ শহর। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবায়নের পথে এগোবে—এই আশায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গেল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ঢাকের তালে নাচ, বাজি-আতশবাজি এবং আনন্দ মিছিলে কার্যত দীপাবলির আগেই উৎসবের আবহ তৈরি হলো উত্তর দিনাজপুর জেলার সদর শহরে।মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম রায়গঞ্জে এসে এইমস হাসপাতাল নিয়ে তাঁর ঘোষণায় জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

 

রায়গঞ্জের দীপনগরে এইমস হাসপাতাল গড়ার প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। সেই ঘোষণার পর থেকেই সভাস্থল ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান।এদিনের আনন্দ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, জেলার দুই মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ও বিরাজ বিশ্বাস এবংবিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ, বিজেপি নেতা শংকর চক্রবর্তী সহ  বিজেপি নেতৃত্বের একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার দৃশ্য।

 

ঢাকের তালে তাঁদের নাচতে দেখা যায়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও উৎসবে শামিল হওয়ার ছবি এদিন রায়গঞ্জের রাজপথে অন্য মাত্রা যোগ করে।সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন পথে পরিক্রমা করেন বলে জানা গিয়েছে।

 

কোথাও ঢাকের তালে নাচ, কোথাও উল্লাসধ্বনি, আবার কোথাও রাতের আকাশে আতশবাজির ঝলক—সব মিলিয়ে রায়গঞ্জের পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।এইমস হাসপাতাল রায়গঞ্জে হলে শুধু উত্তর দিনাজপুর নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন—এমন প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।এদিন দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বকে এই আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করতে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে ঘিরে মানুষের আবেগের প্রকাশও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকের কাছেই এই ঘোষণা কেবল একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব নয়, বরং ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে ছুটে যাওয়ার নির্ভরতা কমার আশার সঙ্গে জড়িত।রায়গঞ্জে এইমস হাসপাতাল গড়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জেলার মানুষের আলোচনায় রয়েছে। উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার অভাবে বহু রোগীকে কলকাতা কিংবা অন্যত্র যেতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং উন্নত পরিকাঠামোর জন্য জেলার বাইরে যাওয়ার সমস্যার কথা বারবার উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে রায়গঞ্জে এইমস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক দিনের।স্থানীয় মানুষের একাংশের বক্তব্য, রায়গঞ্জে এইমস গড়ে উঠলে উত্তর দিনাজপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার বহু মানুষও উপকৃত হতে পারেন। চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।অতীতে রায়গঞ্জে এইমস প্রতিষ্ঠা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও স্থান পরিবর্তনের বিতর্কও সাধারণ মানুষের মনে হতাশা তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দীপনগরে এইমস হাসপাতাল গড়ার প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের উদ্যোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তৎপরতাকে এই ঘোষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরছে বিজেপি শিবির। দলের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য, রায়গঞ্জে এইমস প্রতিষ্ঠার দাবিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।তবে প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর ঘোষণা এবং বাস্তবে এইমস হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। কেন্দ্রের অনুমোদন, জমি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক ছাড়পত্র এবং নির্মাণের সময়সীমা—এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি এখনও নজরে থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষের আনন্দের পাশাপাশি এখন প্রত্যাশা, ঘোষণাটি দ্রুত পরবর্তী প্রশাসনিক পর্যায়ে এগিয়ে যাক।বৃহস্পতিবারের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর রায়গঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল, তা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ও বিরাজ বিশ্বাস-সহ বিজেপি নেতৃত্বের ঢাকের তালে নাচ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আনন্দ উদযাপনের দৃশ্য সেই আবেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।রাতের আতশবাজি, ঢাকের আওয়াজ ও উৎসবের আবহে বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জে যেন আগাম দীপাবলি পালিত হলো। তবে এই আনন্দের পূর্ণতা আসবে তখনই, যখন দীপনগরে এইমস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বাস্তব অনুমোদন পেয়ে নির্মাণের পথে এগোবে।রায়গঞ্জের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—এইমসের স্বপ্ন যেন আর কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ পায়।