‘চোপড়ার মাফিয়াদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা ফের খোলা হবে, লুট হওয়া জমিও উদ্ধার করব’—রায়গঞ্জের জনসভা থেকে হামিদুর রহমানকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর!

চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলি ফের খোলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে এক জনসভা থেকে পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই বার্তা দেন। একই সঙ্গে একুশের বিধানসভা নির্বাচন ও পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় যাঁরা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।এদিনের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এসপি, ইসলামপুরের ডিআইজি-কে বলে গেলাম, চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সেগুলি ফের খোলা হবে। যত জমি লুট হয়েছে, সেই সব জমি উদ্ধার করা হবে।”

তিনি আরও জানান, পরবর্তী জনসভা তিনি চোপড়া ও ইসলামপুর এলাকায় করবেন। তাঁর কথায়, “আমি দেখতে চাই, এই জেলায় কত বড় মস্তান আছে, কত বড় বালি চোর, ভুয়ো মাফিয়া রয়েছে।”মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খোলার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

জনসভা থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একুশের বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় যাঁরা তাঁদের উপর অত্যাচার করেছেন, তাঁরা যেন নতুন করে থানায় অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দ্রনীল সেনের নাম উল্লেখ করে অভিযুক্তদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ফলতার কথাও। ফলতার কথিত মস্তান জাহাঙ্গিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একসময় জাহাঙ্গির নিজেকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতা বা দাপট দেখিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবেন না।ফলতার পুনর্নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, সেখানে এক লক্ষ নয় হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় এসেছে। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরের নির্বাচনী ফলাফলের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ সরকারের পাশে রয়েছে এবং সরকারও মানুষের পাশে রয়েছে।রায়গঞ্জের জনসভা থেকে চোপড়া ও ইসলামপুরে পরবর্তী সভা করার ঘোষণা এবং হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খোলার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন নজর, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি পুনরায় খোলার বিষয়ে আদৌ কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি হয় কি না, সেদিকে। একই সঙ্গে জমি উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।তবে জনসভায় উত্থাপিত অভিযোগগুলি এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে।