রায়গঞ্জে পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তার উদ্বোধন, ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেস-সিপিএমকে নিশানা বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর
তন্ময় চক্রবর্তী :- উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের ৮ নম্বর বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হাঁটমনি গ্রামে পথশ্রী প্রকল্পে নির্মিত নতুন রাস্তার উদ্বোধন করলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। ভুরাত শেখের বাড়ি থেকে চৌরঙ্গী মোড় পর্যন্ত এই নতুন রাস্তার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি ভোটার তালিকা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেন।বিধায়ক বলেন, “এসআইআর-এর নামে ষড়যন্ত্র করে যেভাবে একটি সম্প্রদায়ের ভোট বাতিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা আমরা কোনভাবেই মেনে নেব না। এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তাদের কাছে যথেষ্ট কাগজপত্র ও প্রমাণ রয়েছে।

অবৈধভাবে কারও নাম কাটা হলে আমরা তীব্র আন্দোলনে নামব।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই নাম কাটার ষড়যন্ত্রে বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম একসঙ্গে কাজ করছে। বিধায়কের দাবি, যখন এসআইআর-এর কাজ চলছিল তখন এই তিন দলের কেউ এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেয়নি বা মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, “মানুষের করের টাকাতেই সরকার চলে, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় এবং সরকারি কর্মচারীরা বেতন পান। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ৮০ শতাংশ কর নিয়ে যায়, আর মাত্র ২০ শতাংশ রাজ্যের কাছে ফিরে আসে।”তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এই রাজ্যে ছয় সদস্যের একটি পরিবারকে বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।” আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে মুখ্যমন্ত্রী সবসময় চিন্তাভাবনা করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বিধায়ক কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, “৮০ শতাংশ কর নেওয়ার পরও সাধারণ মানুষের জন্য এমন কোন প্রকল্প করেছে কি, যেটির সরাসরি সুবিধা মানুষ পাচ্ছে?” তাঁর অভিযোগ, বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস ও সিপিএমও ভোটের সময় ধর্মের রাজনীতি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।রাস্তা উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা ও বহু সাধারণ মানুষ।

