রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের ঐকান্তিক উদ্যোগে রায়গঞ্জের বুকে  আধার সেবা কেন্দ্রের পরিষেবা চালু হলো। এবার এক ছাদের তলায় আধারের যাবতীয় পরিষেবা

 

তন্ময় চক্রবর্তী দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রায়গঞ্জ শহরে চালু হলো আধার সেবা কেন্দ্র। আধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য এতদিন সাধারণ মানুষকে দূর-দূরান্তের পোস্ট অফিস, ব্যাংক কিংবা অন্যান্য কেন্দ্রে ছুটতে হতো।

অনেক ক্ষেত্রেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো বলে অভিযোগ ছিল।

 

নতুন আধার সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের ঐকান্তিক উদ্যোগে রায়গঞ্জের বুকে এই আধার সেবা কেন্দ্রের পরিষেবা চালু হলো।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।

 

সাংসদ ও মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন পরিষেবা কেন্দ্রের সূচনা হয়।নতুন এই কেন্দ্রে এবার থেকে আধার সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা আরও সহজে পাওয়া যাবে।

 

আধার তৈরি, সংশোধন, তথ্য আপডেট-সহ আধার সংক্রান্ত একাধিক পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে হেল্প ডেস্ক, যেখানে আধার সংক্রান্ত সমস্যায় পড়লে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন।এই আধার সেবা কেন্দ্রে প্রবীণ নাগরিকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

 

বয়স্ক মানুষদের যাতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে না হয় এবং আধার সংক্রান্ত পরিষেবা পেতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।ফলে আধার সংক্রান্ত ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের জন্য আর দূরের কোনও কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হবে না রায়গঞ্জবাসীকে।

 

নতুন এই পরিষেবা কেন্দ্রেই একাধিক আধার পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, আধার সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল।

পোস্ট অফিস ও ব্যাংকগুলিতে আধার সংক্রান্ত কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলার ক্ষেত্রে আধার পরিষেবা নিয়ে নানা ধরনের প্রশাসনিক বিধিনিষেধ থাকায় মানুষের সমস্যা আরও বেড়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।সাংসদ জানান, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর তিনি এবং রায়গঞ্জের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়ে রায়গঞ্জে দ্রুত একটি আধার সেবা কেন্দ্র চালুর জন্য চেষ্টা করেন।

 

সেই উদ্যোগের ফলেই BLS কোম্পানির মাধ্যমে রায়গঞ্জে আধার সেবা কেন্দ্রের পরিষেবা চালু হয়েছে।কার্তিক চন্দ্র পাল আরও জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন সাধারণ মানুষকে আধার সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর ফলে রায়গঞ্জ তথা আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।আধার বর্তমানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে আধার প্রয়োজন হয়। তাই আধার সংক্রান্ত পরিষেবা সহজলভ্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রায়গঞ্জে নতুন আধার সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় এবার থেকে সাধারণ মানুষকে আধার সংক্রান্ত কাজের জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না। একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়েই আধার সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা ও সমস্যার সমাধান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর রায়গঞ্জে আধার সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সাধারণ মানুষ। তাঁদের আশা, নতুন এই কেন্দ্র দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিষেবা দিলে আধার সংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং জেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে।