রাধিকাপুর–দিল্লি ট্রেন, দৈনিক চালুর দাবিতে সরব সাধারন নাগরিকরা
তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ,উত্তর দিনাজপুর ২৪ জানুয়ারী:দৈনিক রাধিকা পুর_দিল্লী এক্সপ্রেস চলার পরিবর্তে সপ্তাহে মাত্র একদিন বর্তমানে চলায় যাত্রী সাধারবেরা প্রচন্ড ক্ষুব্ধ।এলাকার নাগরিকদের বক্তব্য এক সময় সপ্তাহের প্রতিদিনই চলত রাধিকাপুর–দিল্লি ট্রেন। উত্তর দিনাজপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ এই ট্রেনের উপর নির্ভর করে যাতায়াত করতেন কাজ, চিকিৎসা, পড়াশোনা ও ব্যবসার প্রয়োজনে। কিন্তু বর্তমানে সেই গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনটি সপ্তাহে মাত্র একদিন চলায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন জেলার সাধারণ নাগরিকরা। জানা গিয়েছে, ট্রেনের পরিষেবা কমে যাওয়ার ফলে দিল্লি ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী এবং অসুস্থ রোগীদের পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বহু ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে দিল্লি যেতে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের ভরসা করতে হচ্ছে ব্যয়বহুল বিকল্প পরিবহনের উপর।অন্যদিকেট্রেন সপ্তাহে একদিন হওয়ায় টিকিট পাওয়া যায় কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। বহু যাত্রী অভিযোগ করছেন, অনলাইন বুকিং খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছ।
আগে সপ্তাহে যেকোনো দিন দিল্লি যাওয়ার সুযোগ ছিল। এখন একটি দিনেই ভরসা করতে হচ্ছে। কাজের সময় মিলিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে বহু মানুষ দিল্লি ও আশপাশের রাজ্যে নির্মাণ শ্রমিক, নিরাপত্তারক্ষী, গৃহকর্মী বা বেসরকারি কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাঁদের কর্মজীবনেও প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে দিল্লিতে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ।জেলার একাংশ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে যান। ট্রেন সপ্তাহে একদিন হওয়ায় চিকিৎসা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট মেলানো কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়েছে।এই পরিস্থিতিতে উত্তর দিনাজপুর জেলার সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, অবিলম্বে রাধিকাপুর–দিল্লি ট্রেনটি আবার সপ্তাহে প্রতিদিন চালু করা উচিত। তাঁদের দাবি, যাত্রীসংখ্যা ও চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিষেবা কমিয়ে রাখা যুক্তিযুক্ত নয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, রেল কর্তৃপক্ষ যদি মানুষের সমস্যার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, তাহলে জেলার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রকাশ কুন্ডু বলেন সাধারন নাগরিকদের মত আমরা ব্যবসায়ীরাও চাই সাধারন মানুষের দাবির কথা বিবেচনা করে রাধিকাপুর_দিল্লি সাপ্তাহিক ট্রেনকে পুনরায় পূর্বের মত সপ্তাহের ছয় দিন চালানো যায় রেল দপ্তর সেদিকে দ্রুত দৃষ্টি দেবেন বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা উচিৎ বলেই মনে করা হচ্ছে।রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন পিক আন্ড সিকের কাজ শেষ হয়ে গেলে এই সমস্যার সমাধান অবশ্যই হবে বলে সাংবাদিকদের জানান।
