ফিরল হারানো ঐতিহ্য: ডিজে–র যুগে পালকিতে চড়ে শ্বশুরবাড়ি এলেন নববধূ!

 

তন্ময় চক্রবর্তী :- আজকের যুগে বিয়ে মানেই চোখধাঁধানো আলোর রোশনাই, বিলাসবহুল সুসজ্জিত গাড়ি আর কান ফাটানো ডিজে–র আওয়াজ। হারিয়ে গেছে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁ–র সেই ভৈরবী সুর, আর স্মৃতি হয়ে গিয়েছে পালকির ‘হুঁম–না হুঁম–না’ রব। কিন্তু যান্ত্রিকতার এই ভিড়ে এক টুকরো নস্টালজিয়া নিয়ে ফিরল পুরনো বাংলার ঐতিহ্য। উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে দেখা মিলল এক বিরল দৃশ্যের— আধুনিক গাড়ির বদলে পালকিতে চড়ে নতুন বউ ঘরে আনলেন বর!ঠিক যেন কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের সেই কালজয়ী কবিতার প্রতিফলন— “পালকি চলে, পালকি চলে / গগন তলে আগুন জ্বলে।” কালিয়াগঞ্জের রাজপথ দিয়ে যখন পালকিটি যাচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষের ভিড় জমে গিয়েছিল এক পলক দেখার জন্য। আধুনিকতার যুগে এমন দৃশ্য কদাচিৎ দেখা যায়।কালিয়াগঞ্জ হাসপাতাল পাড়ার এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলের বিয়েতে আয়োজিত হয়েছিল এই রাজকীয় অনুষ্ঠান। বিয়ের এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়েছিল কালিয়াগঞ্জের বিখ্যাত বয়রা কালীবাড়ি থেকে।পালকির আগে আগে চলছিল আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান। মাদলের তালে তালে সেই ছন্দময় পরিবেশ পুরো এলাকাকে মাতিয়ে তোলে।আধুনিকতার চাকচিক্যকে সরিয়ে রেখে বাংলার আদিম সংস্কৃতি আর বনেদিয়ানার এক অপূর্ব মিশেল দেখা গেল এই শোভাযাত্রায়।এক সময় রাজা–জমিদার কিংবা বনেদি পরিবারের যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল পালকি। কালের নিয়মে যা আজ জাদুঘরের বস্তু হতে বসেছে। কালিয়াগঞ্জের এই ব্যবসায়ী পরিবার চেয়েছিলেন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে। তাদের মতে, বিলাসবহুল গাড়িতে জৌলুস থাকলেও, পালকির ছোঁয়ায় যে আভিজাত্য এবং আবেগ মিশে থাকে, তা অতুলনীয়।হারিয়ে যেতে বসা এই সংস্কৃতি নতুন করে ফিরে আসায় খুশি এলাকার প্রবীণ থেকে নবীন— সব প্রজন্মের মানুষই। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ছিল বিস্ময় আর ভালোলাগার আমেজ। এই আয়োজন প্রমাণ করে দিল, আধুনিকতা যতই আসুক না কেন, শিকড়ের টান সবসময়ই অমলিন