“ধান তুলাই পানজি’কে সামনে রেখে উত্তর দিনাজপুরে ভোটের মহাযজ্ঞ—৯ আসনে টানটান লড়াই, শান্তিপূর্ণ ভোটে নজর সবার”
তন্ময় চক্রবর্তী :- কৃষি প্রধান উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভোট এসেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ধান তুলাই পানজি কে ম্যাসকট করে । এই ধান মানুষকে দিচ্ছেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা। রাজ্যের একেবারে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ঘেষা এই জেলায় রয়েছে নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। তার প্রতিফলনও দেখা যায় নির্বাচনে। প্রথম দফাতেই জেলার মোট ৯ টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ।
এই জেলার জেলার কালিয়াগঞ্জ হেমতাবাদ এবং করণদিঘী আসন তিনটি তপশিলি উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়াও বাকি পাঁচটি অসংরক্ষিত আসনের মধ্যে রয়েছে রায়গঞ্জ, ইটাহার, গোয়াল পুকুর, চাকুলিয়া, ইসলামপুর এবং চোপড়া বিধানসভা আসন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লক্ষেরও বেশি। বিধানসভা ভিত্তিক ভোটার সংখ্যা—কালিয়াগঞ্জ – প্রায় ২ লক্ষ ৭৪ হাজার হেমতাবাদ – প্রায় ২ লক্ষ ৬৩ হাজার করণদিঘি – প্রায় ২ লক্ষ ৫৯ হাজার চোপড়া – প্রায় ২ লক্ষ ৪৭ হাজার গোয়ালপোখর – প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার চাকুলিয়া – প্রায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার ইটাহার – প্রায় ২ লক্ষ ২৭ হাজার ইসলামপুর – প্রায় ২ লক্ষ ১৭ হাজার রায়গঞ্জ – প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার নতুন ভোটার (১৮–১৯ বছর): ৯,৯০৭ জন ।জেলায় মোট বুথের সংখ্যা ২২৪৯টি।প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে মডেল বুথ তৈরি করা হচ্ছে।এছাড়াও—PwD ভোটার: ৫২৯৬ জন ৮৫ বছরের বেশি ভোটার: ৭৬০৪ জন বিশেষ ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।জেলাতে মনোনয়নপত্র দাখিল করার কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলি। বেশিরভাগ আসনেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে প্রবীণ প্রার্থীরা যেমন রয়েছে তেমনি নির্বাচনের ময়দানে আধ্যাত্মিক জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে স্বয়ং ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রাক্তন মহারাজ।এছাড়া এই জেলায় বহু নব প্রজন্মের প্রার্থী কেউ দেখা যাচ্ছে।জেলার একদিকে যেমন গোয়ালপুকুর কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রাক্তন মন্ত্রী গোলাম রব্বানী তেমনি জেলার হেমতাবাদ কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলার অপর এক প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন। পাশাপাশি জেলা তৃণমূলের সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামপুর কেন্দ্র থেকে।এছাড়া কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কালিয়াগঞ্জ এর কুনোর এর ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রাক্তন মহারাজ উৎপল মহারাজ।এবার নির্বাচনী লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
দেওয়াল লিখন, ফ্লেক্স যেমন রয়েছে। তেমনই প্রতি দলই জোর দিচ্ছে একেবারে বুথ স্তরে প্রচারে। করা হচ্ছে ছোট ছোট পথ সভা। নির্বাচন নিয়ে জেলায় কোন অশান্তির খবর নেই।জেলা নির্বাচন আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধি মেনেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।তিনি জানান, উত্তর দিনাজপুর জেলায় মোট ১৬ জন অবজারভার নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে—৯ জন জেনারেল অবজারভার ৪ জন পুলিশ অবজারভার ৩ জন এক্সপেনডিচার অবজারভার ,ইতিমধ্যেই এই অবজারভারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনকে ঘিরে জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।বিশেষ করে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এছাড়াও আগামী দিনে ইসলামপুর মহকুমায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল উত্তর দিনাজপুর জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে এক দফায় ভোটগ্রহণ হবেশান্তিপূর্ণ নির্বাচন এই জেলার ঐতিহ্য। এবারও তা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা সব শ্রেণীর মানুষের।


