“রোদের মাঝে সহধর্মিনীর ছাতা, জয়ের পথে আত্মবিশ্বাসী গৌতম—‘১০০% জিতব’ করণদিঘিতে উন্নয়নের বাজি”

তন্ময় চক্রবর্তী: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম পালের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে দেখা গেল ব্যাপক জনসমাগম ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের

উপস্থিতিতে এলাকা জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।বুধবার উত্তর দিনাজপুর জেলার করণজোড়ায় জেলাশাসক দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেন গৌতম পাল। তার আগে হুডখোলা গাড়িতে চেপে বিশাল শোভাযাত্রা করে তিনি দপ্তরে পৌঁছন।

এই শোভাযাত্রার একটি মানবিক দৃশ্য সকলের নজর কেড়েছে—প্রচণ্ড রোদের মধ্যে প্রার্থীর মাথায় ছাতা ধরে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সহধর্মিনী, যিনি বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি।

 

একদিকে দায়িত্বশীল প্রশাসনিক পদ, অন্যদিকে স্বামীর প্রতি এই সহজ-স্বাভাবিক সঙ্গ—এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গৌতম পাল বলেন,“নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন দিয়েছেন, কারণ গত পাঁচ বছর আমি মানুষের সঙ্গে থেকেছি, উন্নয়নের কাজ করেছি এবং সংগঠনকে মজবুত করেছি। করণদিঘির মানুষ আমাকে ভালোবেসে আবার সুযোগ দিতে প্রস্তুত। আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত, আগেরবারের থেকেও বেশি ব্যবধানে জিতব।”তিনি আরও বলেন,“রাজনীতিতে লড়াই না থাকলে মজা নেই। আমি ছোটবেলা থেকেই লড়াই করে এই জায়গায় উঠে এসেছি। তাই বিরোধীদের বিক্ষোভ বা সমালোচনাকে আমি গুরুত্ব দিই না। আমি কোনওদিন হারিনি, আর এবারও হারব না।”নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে গৌতম পাল দাবি করেন,“গত পাঁচ বছরে আমি করণদিঘি বিধানসভায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, যা জেলায় সর্বাধিক। এর পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র আমরা প্রকাশ করব। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে—রোজা, ঈদ, পূজা—সব ক্ষেত্রেই আমি মানুষের পাশে থেকেছি। রাজবংশী, আদিবাসী, হিন্দিভাষী, মতুয়া, উদ্বাস্তু, মুসলিম, বাঙালি—সবাইকে নিয়ে আমি একসঙ্গে কাজ করেছি।”তিনি আরও বলেন,“আমি কখনও মানুষের থেকে দূরে থাকিনি। আগের অনেক বিধায়ক এখানে থাকতেন না, কিন্তু আমি পাঁচ বছর করণদিঘিতেই থেকেছি। আমি বিশ্বাস করি, কাজ করলে তার ফল অবশ্যই পাওয়া যায়। কে কী বলছে, তা দেখার সময় আমার নেই—আমি শুধু সামনে তাকিয়ে মানুষের জন্য কাজ করি।”গৌতম পালের কথায়,“এই গণতন্ত্রে জনতাই শেষ কথা বলে। করণদিঘির মানুষ খুব সচেতন—তারা জানে কে কাজ করেছে, আর কে করেনি। এবার তারই জবাব দেবে ব্যালট বাক্সে।”সব মিলিয়ে, সহধর্মিনীর ছাতা ধরে থাকা সেই মানবিক মুহূর্ত থেকে শুরু করে উন্নয়নের দাবিতে আত্মবিশ্বাসী সুর—সবকিছু মিলিয়ে করণদিঘির রাজনৈতিক ময়দানে গৌতম পালের এই দিনটি যেন এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। আগামী দিনে এই জনসমর্থন কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।