তুলাইপাঞ্জিকে রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি ,বাংলার ঐতিহ্যবাহী চাল পেল আন্তর্জাতিক মান্যতা
বাংলার কৃষি ও খাদ্য-সংস্কৃতির জন্য গর্বের মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত তুলাইপাঞ্জি–গোবিন্দভোগ–কনকচূড় চালকে খাদ্য-সংস্কৃতির হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রসংঘ। এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ঐতিহ্যবাহী চালের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হল বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার-সহ একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চাষ হয়ে আসছে তুলাইপাঞ্জি ধান। স্বাদ, সুবাস ও পুষ্টিগুণের জন্য এই চাল বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আগেই জিআই (GI) তকমা পেয়েছিল এই চাল, এবার রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতিতে তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।কৃষকদের মতে, এই স্বীকৃতি তাঁদের চাষের প্রতি উৎসাহ বাড়াবে।
রায়গঞ্জ এলাকার এক চাষি জানান, “তুলাইপাঞ্জির স্বাদ আলাদা। বাজারে চাহিদা থাকলেও ন্যায্যমূল্য সবসময় পাওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে আশা করছি ভবিষ্যতে দাম ও বাজার—দু’টিই ভালো হবে।”তবে স্বীকৃতির পাশাপাশি উঠছে বিপণন ব্যবস্থার অভাব নিয়ে প্রশ্ন। অনেক কৃষকের অভিযোগ, সরকারি বা সমবায়ী পর্যায়ে পর্যাপ্ত বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় মাঝেমধ্যেই তাঁদের বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। পরিবহণ ও সংরক্ষণের সমস্যাও বড় বাধা।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মত, রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে যদি সঠিক বিপণন নীতি, রপ্তানি পরিকল্পনা এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারে যুক্ত করা যায়, তাহলে তুলাইপাঞ্জি শুধু বাংলার নয়—বিশ্ববাজারেও পরিচিত ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারে।রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, এই স্বীকৃতি বাংলার কৃষি ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নের পথ খুলে দেবে। আগামী দিনে তুলাইপাঞ্জিকে কেন্দ্র করে আরও পরিকল্পনা নেওয়ার ভাবনাও রয়েছে।




![]()
