টিকিট না পেয়ে ‘অভিমানী’ মানস ঘোষ! ফেসবুক পোস্টে দলত্যাগের জল্পনা তুঙ্গে

​রায়গঞ্জ: টিকিট বঞ্চনার ক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আসন্ন বিধানসভা উপ-নির্বাচনে রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে টিকিট না পেয়ে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন গতবারের বিজেপি প্রার্থী মানস ঘোষ। আর তাঁর এই ‘ব্যক্তিত্ব’ এবং ‘শিরদাঁড়া সোজা রাখা’র বার্তা ঘিরেই এখন রায়গঞ্জের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।​কী লিখেছেন মানস ঘোষ?​সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করে মানস বাবু লিখেছেন:​”ভুল আমার হলে মাথা নত করাটা আমার আভিজাত্য, কিন্তু বিনা দোষে মাথা উঁচু করে রাখাটা আমার ব্যক্তিত্ব। মেরুদণ্ডটা সোজাই রাখা ভালো, নত হওয়া সবার অভ্যেস নয়…!!

“​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই পরোক্ষভাবে বিঁধেছেন। গত উপ-নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়ে হারলেও, এবার তিনি পুনরায় টিকিট প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে ব্রাত্য রেখে অন্য কাউকেও গুরুত্ব দেওয়ায় তাঁর এই দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান সামনে চলে এল।​প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক জল্পনা ​গতবার রায়গঞ্জ বিধানসভা উপ-নির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়াই করেছিলেন মানস ঘোষ। সেবার পরাজিত হলেও এলাকায় তাঁর নিজস্ব একটি জনভিত্তি রয়েছে। এবার তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় তাঁর অনুগামীরা হতাশ। ফেসবুকের এই পোস্টটি কি শুধুই অভিমান, নাকি বড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত? জেলা রাজনীতিতে এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।বিজেপির এই অন্তর্কলহ নিয়ে টিপ্পনি কাটতে ছাড়েনি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, “বিজেপি একটি দিশাহীন দল, সেখানে যোগ্যদের কোনো সম্মান নেই। মানস ঘোষের মতো নেতারা এখন সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।”তবে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ হতে পারে। যদিও দলের অন্দরে ফাটল যে চওড়া হচ্ছে, মানস বাবুর এই ‘মেরুদণ্ড’ সোজা রাখার হুঙ্কার তারই প্রমাণ দিচ্ছে।​এখন দেখার, এই অভিমানী পোস্টের পর মানস ঘোষ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান কী নেন। তিনি কি নির্দল হিসেবে দাঁড়াবেন, নাকি অন্য কোনো শিবিরে নাম লেখাবেন? উত্তর দেবে সময়