টানা বৃষ্টিতে জলের তলায় বিঘার পর বিঘা ধানখেত, ফসল নষ্টের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকরা; জলনিকাশির দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মোহাম্মদ জাকারিয়া :- টানা বর্ষণে আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘী ব্লকের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ব্লকের বাজারগাঁও ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আন্ধারিয়া, বাজিতপুর এবং দীঘলগাঁও-সহ একাধিক গ্রামের বিঘার পর বিঘা ধানখেত বর্তমানে জলের তলায়। সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা দীর্ঘ সময় ধরে জলমগ্ন থাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার সময় একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

পর্যাপ্ত জলনিকাশির ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল দিনের পর দিন জমে থাকে কৃষিজমিতে। ফলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। বহুবার প্রশাসনের কাছে স্থায়ী জলনিকাশির দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।এলাকার কৃষকদের দাবি, কয়েক দিনের মধ্যেই আমন ধানের চারা স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলে অধিকাংশ ক্ষেতের চারা পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন করে চারা রোপণ করতে হবে, যার ফলে চাষের খরচ যেমন বাড়বে, তেমনি ফলনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষকদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি খাল ও নিকাশি নালা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির জল বের হতে পারছে না।

কোথাও কোথাও নালাগুলি পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও অবৈধ দখলের কারণেও জল চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।ক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জলনিকাশির ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

তাঁদের বক্তব্য, কৃষিই এই এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।এলাকার কৃষকদের আশা, প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি পরিদর্শন করে জলনিকাশির ব্যবস্থা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।