কালিয়াগঞ্জ পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগে নড়েচড়ে প্রশাসন, তদন্তে – নগরোন্নয়ণ দপ্তরের চার সদস্যের দল।
তন্ময় চক্রবর্তী :-উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পুরসভার ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের জেরে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। সম্প্রতি, মালদা বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে কালিয়াগঞ্জের এক বিশিষ্ট সাংবাদিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে নগরোন্নয়ণ ও পৌর বিষয়ক দপ্তর।

সোমবার, নগরোন্নয়ণ দপ্তরের অধিন ডিরেক্টর অফ লোকাল বডিস-এর ডেপুটি ডিরেক্টরের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্তকারী দল কালিয়াগঞ্জ পুরসভায় পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
এই তদন্তকারী দল দীর্ঘ সময় ধরে পুরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নথি ও প্রকল্প সরজমিনে খতিয়ে দেখে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছে বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তকারী দল প্রকল্পগুলির আর্থিক ব্যয়, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বিদায়ী তৃণমূল পুরবোর্ডের আমলে সুইমিংপুল নির্মাণ, ডাকবাংলো সংস্কার, নির্মল বাংলা প্রকল্পে শৌচালয়, শান্তি কলোনি মহাশ্মশান সংস্কার, কালীবাড়ি থানা সংলগ্ন বিসর্জন ঘাট উন্নয়ন, গ্রিন সিটি মিশনের আওতায় এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন,
শহর সৌন্দর্যায়ন, মূর্তি স্থাপন, ডিভাইডার নির্মাণ, খেলার মাঠ সংস্কার এবং বৃক্ষরোপণ-সহ একাধিক প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছে।অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এর মাধ্যমে একাধিকবার তথ্য চাওয়া হলেও পুরসভা প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করেনি।
এতে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে তাঁর অনুমান।স্মারকলিপিতে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার একজন ইঞ্জিনিয়ারের আয় এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উৎসের তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে অভিযোগ পত্রে দাবি জানানো হয়েছে, ২০২২ – ২০২৫ সালের সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পের স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, সরকারি অর্থের ব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ যাচাই, প্রকল্প রূপায়নে দায়িত্ব প্রাপ্ত পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
নগরোন্নয়ণ দপ্তরের তদন্তকারী দলের আগমন ঘিরে পৌরসভার পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদায়ী তৃণমূল পৌর বোর্ডের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।
