চুল্লি আছে, নেই জল-বিদ্যুৎ! অন্ধকারেই চলছে শতবর্ষের মহাশ্মশানইটাহারের চুড়ামোন ‘নীলকুঠি’ মহাশ্মশানে ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসী

বিপ্লব চাকি  ঃ-     উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের চুড়ামোন এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘নীলকুঠি’ মহাশ্মশান আজও ন্যূনতম নাগরিক পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত। শ্মশানঘাটে দাহ করার জন্য চুল্লি ও একটি বিশ্রামাগার থাকলেও নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, এমনকি শ্মশানে পৌঁছানোর উপযুক্ত রাস্তাও নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতের অন্ধকারেও চরম দুর্ভোগের মধ্যেই মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার মানুষ।স্থানীয়দের দাবি, মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মহাশ্মশান বহু প্রাচীন। জমিদার ভূপাল চন্দ্র রায়-এর আমল থেকেই আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষ এখানে মৃতদেহের সৎকার করে আসছেন।

শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় এখনও ব্রিটিশ আমলের নীলচাষের স্মৃতি বহনকারী ‘নীলকুঠি’র কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যার কারণেই এই শ্মশান ‘নীলকুঠি মহাশ্মশান’ নামে পরিচিত।কয়েক বছর আগে প্রশাসনের উদ্যোগে এখানে একটি বৈদ্যুতিক বা আধুনিক দাহচুল্লি এবং বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হলেও, প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিকাঠামো আজও গড়ে ওঠেনি। শ্মশানে পানীয় জলের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় মৃতদেহ দাহের পর চুল্লি পরিষ্কার করা, উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনের পানীয় জলের চাহিদা মেটানো বা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করতেও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।সবচেয়ে বড় সমস্যা রাতের বেলায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শ্মশানঘাটে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। তখন বাধ্য হয়ে হ্যাজাক বা অন্য অস্থায়ী আলোর ব্যবস্থা করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। বর্ষাকালে বনজঙ্গলে ঘেরা কাঁচা রাস্তা দিয়ে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়াও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “একজন মানুষের জীবনের শেষ যাত্রাটুকুও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করার মতো ন্যূনতম পরিবেশ এখানে নেই। শ্মশানে চুল্লি থাকলেও জল নেই, আলো নেই, ভালো রাস্তা নেই। বছরের পর বছর ধরে আমরা একই সমস্যার মধ্যে রয়েছি।”গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে শ্মশানঘাটে স্থায়ী পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, সৌর আলো, পাকা রাস্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের মতে, এই শ্মশান শুধু একটি গ্রামের নয়, আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।এ বিষয়ে ইটাহার এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য সায়েস্তা আলম বলেন,
“শ্মশানঘাটে পানীয় জল ও বিদ্যুতের যে সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।”দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান কবে হবে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ইটাহারের চুড়ামোন, নীলকুঠি ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে মহাশ্মশানটি প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিকাঠামো পাবে এবং শেষযাত্রায় আর দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না।