ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে স্বপ্নপূরণের পথে রাধিকাপুরের মানুষ, টাঙ্গন নদীর উপর বহু প্রতীক্ষিত চক দিলাল সেতুর সয়েল টেস্ট শুরু,বছরের পর বছর অপেক্ষার অবসান?

 

তপন চক্রবর্তী | কালিয়াগঞ্জ | ৪ আগস্টউত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের বহু বছরের স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। প্রস্তাবিত চক দিলাল সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার টাঙ্গন নদীর উপর মাটি ও লেয়ার (সয়েল) পরীক্ষার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার–সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত আধিকারিক।

আধিকারিকরা জানান, কোনও সেতু নির্মাণের আগে মাটির গঠন, বহনক্ষমতা এবং নদীর তলদেশের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পর্যায়ে সেতুর নকশা ও নির্মাণ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।চক দিলাল এলাকায় টাঙ্গন নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে বহুবার এই দাবি বিভিন্ন মহলে জানানো হলেও বাস্তবে কোনও কাজ এগোয়নি। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোট শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি তাঁদের।বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এবং কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের কাজ নতুন গতি পেয়েছে বলে এলাকাবাসীর একাংশের মত। তাঁদের দাবি, রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল এবং কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ–এর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তৎপরতার ফলেই বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। তাঁদের মুখে ফুটে ওঠে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন আশার ছবি।স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল বর্মন বলেন,”ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এখানে ব্রিজ হবে। কত নেতা এলেন, কত প্রতিশ্রুতি দিলেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আজ নিজের চোখে সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হতে দেখে সত্যিই মনে হচ্ছে এবার হয়তো স্বপ্ন পূরণ হবে।“আর এক বাসিন্দা মঞ্জু দেবী বলেন,”বর্ষাকালে নদী পার হতে আমাদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। স্কুল–কলেজের পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী—সবাই ভোগান্তির শিকার হন। ব্রিজ হলে গোটা এলাকার চেহারাই বদলে যাবে।“স্থানীয় যুবক সঞ্জয় রায় বলেন,”আজকের দিনটা আমাদের গ্রামের কাছে ঐতিহাসিক। বহু বছরের দাবি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত নির্মাণকাজও শুরু হোক।“গ্রামবাসীদের আশা, সয়েল টেস্টের কাজ দ্রুত শেষ করে প্রশাসন যাতে অতি শীঘ্রই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। তাঁদের মতে, এই সেতু তৈরি হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা–বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর টাঙ্গন নদীর উপর প্রস্তাবিত চক দিলাল সেতুর সয়েল টেস্ট শুরু হওয়ায় রাধিকাপুর ও আশপাশের গ্রামের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—প্রশাসনিক সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হোক।