গুরুপূর্ণিমায় শিক্ষাগুরুকে বিশেষ সম্মান — ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক প্রসূন দাসকে সংবর্ধনা বিজেপির
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৯ জুলাই:গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরুদেবো মহেশ্বর’— ভারতীয় সংস্কৃতিতে গুরু বা শিক্ষকের স্থান সর্বোচ্চ। সেই চিরন্তন ঐতিহ্যকে স্মরণ করে পবিত্র গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রসূন দাসকে তাঁর নিজ বাসভবনে গিয়ে সংবর্ধনা জানালেন বিজেপি নেতা সন্তোষ বেঙ্গনি-র নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী ও সমর্থক।বুধবার সকালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিজেপির প্রতিনিধিদল প্রসূন দাসের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় এবং স্মারক উপহার দিয়ে সম্মান জানায়। আচমকা এই সংবর্ধনায় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বর্ষীয়ান এই শিক্ষক।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতিচারণও করেন তিনি।প্রসঙ্গত, প্রসূন দাস প্রায় এক মাস আগে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন দক্ষ শিক্ষাপ্রশাসক হিসেবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা সন্তোষ বেঙ্গনি বলেন,“গুরুপূর্ণিমা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, এটি আমাদের জীবনে শিক্ষকদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। প্রসূন দাস মহাশয় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। সমাজ গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাঁকে সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”সংবর্ধনা গ্রহণ করে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রসূন দাস বলেন,“গুরুপূর্ণিমার মতো পবিত্র দিনে এই সম্মান পেয়ে আমি সত্যিই আপ্লুত। শিক্ষক জীবনে ছাত্রছাত্রীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। আজ বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়ে মনে হচ্ছে আমার দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। এই সম্মানের জন্য আমি সকলের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি কর্মীরাও জানান, সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।গুরুপূর্ণিমার পবিত্র দিনে এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনকে ঘিরে এলাকায় ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। বহু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

