কালিয়াগঞ্জের সৃষ্টিশ্রী মেলায় মালগাঁও এর কার্পেটে শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে

তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ,উত্তর দিনাজপুর,২৯ ডিসেম্বর:উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের মলগাঁও এর কার্পেটের কদর জগৎজোড়া বললে ভুল হবেনা। মালগাঁও এর ৩৫ টি পরিবারের তৈরি দর্শনীয় কার্পেট পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। মালগাও এর বিভিন্ন রকমের দর্শনীয় কার্পেট বর্তমানে কালিয়াগঞ্জ শহরের রানিং বুলেট ক্লাবের মাঠে উত্তর দিনাজপুর জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলায় কার্পেট শিল্পীরা তাদের হাতের বানানো কার্পেট মানুষ দেখে যেমন মুগ্ধ হচ্ছে তেমনি তাদের পছন্দ মতন কার্পেট গৃহ সজ্জার জন্য নিয়ে যেতে কেও ভুলছে না। আসলে কালিয়াগঞ্জ শহরের নাগরিকরা মেলায় এসে রথ যেমন দেখছেন তেমনি কলাও বিক্রি করছেন বলা যায়। মালগাওয়ের সাহাদাত হোসেন এবং আব্দুল মজিদ রবিবার তাদের কার্পেটের স্টলে এই প্রতিবেদককে জানায় একসময়ের নেশা কিভাবে পেশায় পরিণত হয়েছিল।

প্রায় একদশক ধরে স্ত্রীর সঙ্গে একসাথে কার্পেট তৈরি করা শিখে এখন কার্পেট তৈরি আমাদের পেশায় পরিণত হয়েছে।শুধু এই মেলায় নয় আমরা বছরে ২০ টির মত মেলা করে থাকি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে।সাহাদাত হোসেন জানায় এই সৃষ্টিশ্রী মেলায় ১৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি পাপোস। ১৫০০ থেকে ৮,০০০/১০,০০০ টাকার কারপেট এনেছি বিক্রির জন্য।রায়গঞ্জের মিলন পাড়ার নির্মাল্য ব্যানার্জি জানান কালিয়া গঞ্জের মালগাও এর কার্পেটের নাম শুনেছি অনেক।তবে এবার একেবারে সামনে থেকে দেখলাম।সত্যি সত্যিই অসাধারন। সাহাদাত হোসেন জানায় মালগাযে রাজ্য সরকার কার্পেটের মেগা ক্লাস্টার কারখানা তৈরি করবার জন্য ছয় বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে বেশ কয়েক বছর হল। কিন্তু আজও কার্পেটের মেগা ক্লাস্টার কারখানার কোন কাজই শুরু হয়নি।অথচ এই কারখানাটি তৈরি হলে আমাদের উত্তরপ্রদেশের উপর আর নির্ভর করতে হবে না কার্পেটের কাঁচামালের জন্য।মালগাওএর কার্পেট শিল্পীরা অভিযোগের সুরে জানায় আজ যদি আমাদের মালগাওতে কার্পেটের মেগা ক্লাস্টার কারখানা শুরু করা যেত তাহলে এই এলাকার বহু যুবক যুবতি এই শিল্পের মাধ্যমে তারা তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারতো এই বেকারত্বের যুগে।ম্যালগাও এর কার্পেটে শিল্পী আব্দুল মজিদ বলেন অধিক মুনাফা এবং সুযোগসুবিধার জন্য এখানকার দক্ষ কার্পেট শিল্পীরা উত্তর প্রদেশের ভদুই,বেনারস,পানিপথ চলে গেছে।তিনি জানান উত্তর প্রদেশের একাধিক কার্পেটের মালিক তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রচুর পরিমাণে কার্পেট নিয়ে নিয়ে গিয়ে তারা সেখান থেকে মালগাওয়ের কার্পেট বিদেশে নিয়ে গিয়ে তারা অধিক মূল্যে বিক্রি করে প্রচুর পয়সা আয় করছে। লাভের গুরটা আমরা পাইনা পায় উত্তর প্রদেশের কার্পেট বিক্রেতারা।