উত্তর দিনাজপুরে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার নতুন জেলা সভাপতি বাপি সরকার, সাংগঠনিক বিস্তার ও জনসংযোগে জোরের বার্তা
মোহাম্মদ জাকারিয়া উত্তর দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। সংগঠনের পক্ষ থেকে করণদিঘি থানার বোতলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার সরকার (বাপি সরকার)-কে উত্তর দিনাজপুর জেলার নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি কমলেশ কুমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের দাবি, উত্তরবঙ্গে সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও সুসংহত করা, নতুন সদস্য সংগ্রহ, জেলার প্রতিটি ব্লক ও গ্রামাঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করতেই এই নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। নেতৃত্বের বিশ্বাস, বাপি সরকারের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা আগামী দিনে উত্তর দিনাজপুরে সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি এনে দেবে।নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাপি সরকার বলেন, “সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই দায়িত্ব আমার কাছে শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি বড় দায়বদ্ধতা। আমি সর্বশক্তি দিয়ে সংগঠনের আদর্শকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং উত্তর দিনাজপুরের প্রতিটি প্রান্তে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করব।”তিনি জানান, আগামী দিনে জেলার বিভিন্ন ব্লক, গ্রাম ও শহরাঞ্চলে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক, সদস্য সংগ্রহ অভিযান, যুব সমাজকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ এবং একাধিক সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।বাপি সরকারের বক্তব্য, “শুধু সংগঠন বিস্তারই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। সমাজের বিভিন্ন সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করাও আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”সংগঠনের নেতাদের মতে, উত্তর দিনাজপুরে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সাংগঠনিক পরিধি আরও বাড়াতে আগামী কয়েক মাসে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জেলার প্রতিটি ব্লকে সাংগঠনিক কমিটি গঠন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি, যুব ও মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে বাপি সরকারের নিয়োগকে ঘিরে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁদের বিশ্বাস, তাঁর নেতৃত্বে উত্তর দিনাজপুরে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের কার্যক্রম নতুন মাত্রা পাবে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উত্তর দিনাজপুরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা আগামী দিনে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরালো করার চেষ্টা করবে। নতুন জেলা সভাপতির নেতৃত্বে সংগঠন কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং জেলার সামাজিক-রাজনৈতিক পরিসরে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

